
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধ ও কিশোর অপরাধ কমাতে রাতভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের রাতের আড্ডা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের লেকপাড়, অলিগলি, পার্ক ও নির্জন স্থানগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত তরুণদের আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এসব আড্ডা থেকে অনেক সময় মা*দকাসক্তি, মা*রামারি, চু*রি-ছি*নতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষকরে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিশোরদের মধ্যে এ প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় গতকাল রাত ৯টার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করে পুলিশ। অভিযানের সময় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করা তরুণদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে পড়াশোনা, চিকিৎসা বা জরুরি কাজে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে জানায় পুলিশ।
অভিযানে আটক কিছু শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়। মুচলেকার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়। পরে রাত ১২টার পর তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অনেক অভিভাবক পুলিশের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
অভিযান চলাকালে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সদর থানায় উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “কিশোর বয়সে সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে তারা সহজেই বিপথে যেতে পারে। তাই পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পুলিশের এই কার্যক্রম শাস্তিমূলক নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধের অংশ। তরুণদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোর অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। স্থানীয়দের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
















