
ক্রাইম পেট্রোল ডিজিটাল ডেস্ক।।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা ছিল, দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে কার্ড বিতরণের নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ নীতিমালা তৈরি করে।
পাইলটিং এই প্রকল্পের জন্য মোট ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যার ৭৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে।
গত মঙ্গলবার এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। ওই দিন একযোগে ১৪টি উপজেলায় এ কর্মসূচির সূচনা করা হবে এবং তা ধারাবাহিকভাবে চলবে। আশা করছি এই পাইলট কর্মসূচি আগামী চার মাসের মধ্যে শেষ হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা এর আওতায় আসবে।
কত করে পাবেন
নীতিমালায় কার্ডের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা এ কার্ড পাবেন। এ কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৬ হাজার ৫০০ দরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে ২ কোটি দরিদ্র পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। এছাড়া এই কর্মসূচি চালু হলে সব নগদ ভাতা ও টিসিবির সহায়তা এক কার্ডের অধীনে চলে আসবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলছে। কিন্তু এর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রায় ২২-২৫ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্ররা বাদ পড়ছেন। এসব সমস্যা দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম হওয়া এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই ভাতাটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।
কারা পাবেন
নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সে সাত শ্রেণির মানুষ হলেন— ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার, হিজড়া, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার, দশমিক ৫ একর বা এর কম জমির মালিক।
কারা পাবেন না
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন ৬ শ্রেণির মানুষ। এই ৬ শ্রেণির মানুষ হলেন— পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে, বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী, গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে, পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে, বড় ব্যবসা থাকলে।
কীভাবে পাবেন
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসাবে স্থানান্তরিত করা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলোও পাওয়া যাবে। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এই গাইডলাইনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঈদের আগেই তিন গ্রামের লোকজন পাচ্ছেন এ ফ্যামিলি কার্ড। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর সুরিয়ারপাড়, হাতিয়া রাধানগর ও আকিলশাহ গ্রামে পাইলট প্রকল্পের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে সরকার।

















