
পঞ্চগড় প্রতিনিধি।।
কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকায় দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে শীত। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় উত্তরের এই জনপদে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ অঞ্চলের শীতের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, রোববার(২৫ অক্টোবর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও এর আগের দিন
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় একই কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।ওই দিন পঞ্চগড়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দিনের বেলা তপ্ত রোদ থাকলেও মধ্যরাতের পর থেকেই পাল্টে যাচ্ছে আবহাওয়া। দ্রুত তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবনে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীরা জানান, এখন সন্ধায় ফ্যান চালানো গেলেও মধ্যরাতের পর হালকা কাঁথা কিংবা পাতলা কম্বল শরীরে জড়াতে হচ্ছে। ভোরের আকাশে মেঘের বদলে এখন কুয়াশায় ডাকছে মাঠ ঘাট আর ঘাসের ডগায় মুক্তার মতো জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীত খুব কাছেই। ভোরবেলা উত্তরের যে হিমেল হাওয়া বইছে, তা শরীরে শীত অনুভব হওয়া শুরু করছে।
ভৌগোলিক কারণে পঞ্চগড়কে বলা হয় বাংলাদেশের ‘শীতের রাজধানী’। তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট থেকে আকাশপথে হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। আর ভারতের শিলিগুড়ি মাত্র ১০ ও দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার দূরে। হিমালয় ও মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বায়ু সবার আগে এই জেলাতেই প্রবেশ করে। আবহাওয়াবিদদের মতে, কাশ্মীর ও দিল্লির অতি শীতের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পঞ্চগড় দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। যার ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব সবসময়ই বেশি থাকে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ অঞ্চলে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে। ভোরে কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাচ্ছে। আজ তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রিতে নেমেছে। এখন থেকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও কমবে, যা মূলত শীতের বার্তা।

















