
হালিম সৈকত, তিতাস (কুমিল্লা) থেকে।।
কুমিল্লার তিতাসে চার বছরের মাতৃহারা এতিম শিশু আরিশাকে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হ*ত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ মা পপি আক্তারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শিশুটির দুই পা ভে*ঙে যাওয়ার পাশাপাশি মাথা ও বুকে গুরুতর আ*ঘাত লেগেছে। বর্তমানে সে কুমিল্লার ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি গ্রামের আবুল কালামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আরিশা ওই বাড়ির আবুল কালামের মেয়ে। অভিযুক্ত পপি আক্তারের বাবার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার পুনিয়ারটন গ্রামে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত পপি আক্তারের কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আরিশার আপন মা প্রায় দুই বছর আগে মারা যান। এরপর সম্প্রতি তার বাবা আবুল কালাম পপি আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় শিশুটিকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে।
আরিশার দাদি অভিযোগ করে বলেন, “পপি আক্তার ডাক দিয়ে আরিশাকে বাড়ির তিনতলার ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরে নিচে থাকা পাথরের ওপর পড়ে শিশুটির দুই পা ভে*ঙে যায় এবং মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সময়মতো পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের না পেলে তার দুই বছর বয়সী নাতি জিসানকেও ক্ষতির শিকার হতে হতো। তাকেও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেন তিনি।”
অপরদিকে, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা জানান, শিশু আরিশা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, ঘটনাটি আড়াল করতে টালবাহানা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”














