
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে দলিল মূলে ভোগকৃত বসতভিটা জো*রপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী পরিবারটি দাবি করেছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা, হু*মকি ও ভ*য়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মানিকখালি ইউনিয়নের পাচপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়া, পিতা মৃত আব্দুল হাসেম ভূইয়ার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া প্রায় ১ একর ৪১ শতাংশ জমি ১৯৬৭ সাল থেকে দলিল অনুযায়ী ভোগদখল করে আসছেন। অথচ ওই জমি দখলের উদ্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ভজন রায় ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদশা মিয়ার ছোট মেয়ে অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বাবাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে ভজন রায় ও তার লোকজন প্রতিনিয়ত তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।’
অভিযোগকারী বাদশা মিয়া বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মুঠোফোনের মাধ্যমেও হুমকি দিয়ে আসছে।’
এছাড়াও বাদশা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্য একটি দাগে নিজের ২৪ শতাংশ জমি ভজন রায়ের কাছে বিক্রি করার পর স*ন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আরও ২৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভজন রায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট জমিটি তার দাদার সম্পত্তি এবং তিনি ওয়ারিশ সূত্রে তা পেয়েছেন। তার কাছে আরএসসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র রয়েছে।’
ভুক্তভোগী পরিবারের অপর সদস্য জামাল ভূইয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ভজন রায় ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে হেনস্তা করে আসছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে দলিলমূলে ভোগকৃত বসতভিটা দখলের কোনো অপচেষ্টা না ঘটে।’


















