
ক্রাইম পেট্রোল ডেস্ক।।
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে (১২ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে কুমিল্লা-২( হোমনা -তিতাস) আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই মুহূর্তে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শুধু আলোচনা হচ্ছে কে হতে যাচ্ছেন এই আসনের এমপি। এর মধ্যে আলোচনায় যারা রয়েছেন তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম ভূঁইয়া (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র মো. আবদুল মতিন খান ( তালা) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. নাজিম উদ্দীন মোল্লা( দাঁড়িপাল্লা)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার বলছেন, মো. সেলিম ভূঁইয়াকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে, মানুষ বিএনপিকে পছন্দ করে, ধানের শীষকে পছন্দ করে আর যারা বিএনপি করে তারা কখনও অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিবে না। সেই হিসেবে তাদের প্রত্যাশা মো. সেলিম ভূঁইয়াই হতে যাচ্ছেন এই আসনের এমপি।
আবার কেউ কেউ বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল মতিন খান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন। বিএনপির আমলে তিনি হোমনা, তিতাস,দাউদকান্দি ও মেঘনার উন্নয়ন কাজে তৎকালীন মন্ত্রী এমকে আনোয়ার এবং ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন কে সার্বিক সহায়তা করেছেন, অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সেকারণে সাধারণ ভোটাররা সুযোগ পেলে তাকেই ভোট দিবে। এছাড়া মো. আবদুল মতিন খান হোমনা-তিতাসের সন্তান। এ বিষয়টিও এই নির্বাচনে বিরাট প্রভাব ফেলবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতনমহল বলছেন, হোমনা-তিতাসের মানুষ বিএনপিকে ভালবাসে এবং অতীতের ইতিহাসও তাই প্রমাণ করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এই নির্বাচনের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। এসব কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. উপযুক্ত প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়া ২. উক্ত আসনে বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের স্থান না দেয়া ৩. নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ সিনিয়র নেতাদের অশালীন বক্তব্য প্রদান ৪. নির্বাচনী প্রচারণা সভায় নাচ-গানের আসর জমানো ৫. তিতাস উপজেলাকে কুমিল্লা-২ আসন থেকে বাদ দিয়ে মেঘনাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রাণপণ চেষ্টা ৬. আ’লীগকে দলে ভিড়ানোর সরাসরি ঘোষণা ৭. নির্বাচনকালীন দলের নেতাদের বহিষ্কার করা ৮. কিছু কিছু নেতা-কর্মীর উভয় কূল রক্ষা করে চলার নীতি অনুসরণ ৯. ভালো আচরণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে টানতে না পারা ১০. স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া এবং এ ঘটনায় আ’লীগের লোকদের মামলায় আসামি করা ১১. প্রার্থী এবং কিছু নেতার ব্যক্তি ইমেজে ঘাটতি ১২. এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য ও বালি সিণ্ডিকেটের গুঞ্জন ১৩. দলীয় মার্কার বলে পাশ করার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসসহ নানা কারণে ভোটের মাঠে পিছিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম ভূঁইয়া।
অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস থাকাকালীন কুমিল্লা-( হোমনা-তিতাস) আসনের উন্নয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল মতিন খানের অবদান, বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাকরণ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিতে সহায়তাকরণ, বিএনপির দুর্দিনে বিভিন্ন মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ। তাছাড়া নির্বাচনী প্রচারণা সভায় শালীনতা বজায় রেখে বক্তব্য প্রদান, নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা, তিতাসের সন্তান হওয়া,কাকতি-মিনতি করে ভোট চাওয়া, ব্যক্তিগতভাবে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং মূল্যায়ন করা, নির্বাচনী প্রচারণা সভায় নাচ-গানের আয়োজন না করাসহ তার ব্যক্তি ইমেজের কারণে শেষ মুহূর্তে তিনি ভোটের মাঠে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনও নির্বিঘ্নে ভোটদানের বিষয়ে শঙ্কা পুরোপুরি কাটে নি। তবে নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং তৎপরতা তাদেরকে অনেকটাই সাহস যুগিয়েছে।
এদিকে, উক্ত আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. নাজিম মোল্লা মেঘনার সন্তান হলেও বিএনপির দলীয় কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে মোটামুটি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন তিনি তৃতীয় স্থানে অবস্থান করবেন।


















