পাবনা সুজানগরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

পাবনা প্রতিনিধি >>

পাবনার সুজানগরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। আর মাত্র চার দিন পর ঈদ- উল আযহাকে সামনে রেখে সুজানগর উপজেলায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। টুং টাং শব্দই বলছে ঈদ লেগেছে কামারের দোকানগুলোতে। দিন রাত চলছে  কোরবানি  জবাই করার যন্তপাতি চাপাতি, দা, বটি, ছুরি তৈরী ও শানের কাজ। নাওয়া খাওয়া ভুলেই প্রায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। কামারদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলে বছরে তো একটাই সময় পাই কটা দিন মাত্র ব্যস্ত, কুরবানি ঈদের পর তো আর তেমন কোন কাজ থাকে না। তাইতো এই সময়টাকে বেশ উপভোগ করে কামার শিল্পীরা।

সুজানগর শহরের বা গ্রাম এলাকায় কামাররা এখন মহাব্যাস্ত সময় পার করছেন। লাল আগুনের লোহায় গলিত করে কামারদের পিটাপিটিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার দোকানগুলো। টুংটাং শব্দটি তাদের জন্য এক প্রকার ছন্দ ,বৈ আর কি।  এ ছন্দের তালে চলছে স্বহস্তের জাদুময়ী হাতুড়ি আর ছেনীর কলা কৌশল। বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়ে দা, বটি, চাকু, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি করছেন কামাররা।

বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পীদের দুর্দিন চললেও ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে জমে উঠে তাদের এই হস্ত শিল্প ( হাতের কাজ)। সারা বছর এই কোরবানির ঈদের (ঈদুল আযাহার) জন্য অপেক্ষায় থাকেন তারা।

সুজানগর উপজেলা মোড়ের আব্দুর রহিম নামে এক কামার শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এবং তিনি বললেন এ সময়টিতে যারা কোরবানির পশু জবাই করেন তারা প্রত্যেকে চাপাতি, দা, বটি, ছুরি তৈরি করেন। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে এ সময়টিতে কাজ বেশি হওয়ার কারণে লাভও বেশি হয়। কিন্তু লোহার দাম কিছুটা কম থাকলেও কয়লার দাম বেশি থাকায় মজুরি একটু বেশি নিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের পরিচিত কিছু গ্রাহক দা, বটি, ছুরি বানানোর অর্ডার দিয়ে গেছে এবং শান ( ধার) দিতে অর্ডার পেয়েছি। পাশাপাশি নতুন বটি, ছুরি তৈরি করছি। বিশেষ করে কোরবানির ৩ থেকে ৪ দিন আগে গ্রাহকদের আনাগোনা বেড়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

কামার শিল্পীদের কাছে চাপাতি ক্রয় করতে আসা সুজানগর পৌরসভার কাচারীপাড়া এলাকার ফিরোজ রানা ও আব্দুস সবুর প্রাং বলেন, এই সময়টায় (ঈদুল আযহার) কোরবানির পশু জবাই দেয়া হয়। যার কারণে কসাই পাওয়া অনেক মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই নিজেরাই কোরবানির পশুর কাটা-ছিলার কাজে লেগে যাই। এ সময় দরকার পড়ে গোশত কাটার জন্য চাপাতি, দা ও ছুরির। আর সেগুলো তৈরি করেন কামাররা। তারা দেশীয় প্রযুক্তিতে লোহা আগুনে গরম করে পিটিয়ে তৈরি করেন দা, ছুরি ইত্যাদি। এখানে নিজেদের সুবিধা মত তৈরি করা যায়। এবং এগুলি খুব টেকসই হয়।

এদিকে এই সময়ে কাজের ওপর তাদের পরিবারের ছেলে-মেয়েদেরও লেখাপড়া জামা-কাপড়সহ বছরের খোরাকি নির্ভর করে। যদিও কামার শিল্পের আনুষঙ্গিক কয়লা ও লোহার দাম লাগামহীন ভাবে উঠানামা করতে থাকে। তাই স্থানীয় কামাররা বাপ-দাদার এ পেশাকে ধরে রাখতে কয়লা ও লোহার দাম নিয়ন্ত্রণ ও সহজ শর্তে ঋনের দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ আসলেই তাদের ব্যবসা চাঙা হয়।

স্থানীয় আলম হোসেন নামক এক কামার জানান, গ্রাহকের অর্ডার সামাল দিতে ইতোমধ্যে আমরা দোকানে বাড়তি কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে ৩ মণ কাঁচা লোহা কিনে এনেছি। শান দেওয়ার যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে বাড়তি কয়লা ও হাতল। আর বর্তমানে সুজানগরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন কামারের দোকানে গ্রাহকের আনাগোনা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। কামাররাও দা, বটি, ছুরি, শান দিতে ব্যস্ত। দোকানের সামনে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন নতুন দা, ছুরি, বটি।

মানভেদে নতুন চাপাতি-১২০০-২০০০টাকা, দা ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছুরি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বটি ৩০০ থেকে ৬০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে আব্দুল বাতেন নামের এক কামার জানান, এ পেশার ভবিষ্যত নিয়েও তারা এখন চিন্তিত। কারণ এ কাজের সময় আওয়াজ হয় বলে সুজানগর পৌর শহরে তেমন কেউ তাদের দোকান ভাড়াও দিতে চায় না। সীমিত আয় দিয়ে তাদের সংসার চলে। যেমন পূঁজি নেই তেমনি আয়ও নেই। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আগামীতে এ পেশা টিকিয়ে রাখা খুব কষ্টকর হয়ে পড়বে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *