ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাবা- মেয়ের একি কাণ্ড!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি >>
বাবা মেয়ের কাণ্ড দেখে হতবাক ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সাধুখালী গ্রামের কৃষক পরিবার। বাবা কুরবানির গরু বিক্রি করা টাকা আত্মসাৎ করেছে আর মেয়ে ঝাল বিক্রি করা ৫২ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। জানা যায়, সাধুখালী গ্রামের অসহায় কৃষক সাইদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল গত ১০ মাস আগে পার্শ্ববতী কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার লক্ষিপুর গ্রামের মিরাদুল ইসলামের মেয়ে মুসলিমা খাতুনকে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করে। সংসার জীবনে ভালই ছিলেন নাজমুল আর মুসলিমা। গত কুরবানির ঈদের আগে শ্বশুর মিরাদুলের ১০টি গরু ও জামাই নাজমুল এর ১টি গরু বিক্রি করতে সিলেটে যায়। সিলেটে যেয়ে ১১টি গরু বিক্রি করে। তবে এবার শ্বশুরের গরুর ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়। অনেক টাকা দেনা হয়ে যায় শ্বশুর মিরাদুলের। আর এসব টাকার দেনা পরিশোধ করতে শ্বশুর মিরাদুল জামাই নাজমুলের একটি গরু বিক্রি করা ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। পরে ফেরত দেবার কথা বলে। শ্বশুরের লোকসান দেখে জামাই টাকাগুলো ধার দেয়। আর সেই টাকা গুনধর শ্বশুর মেরে দিয়েছে। এদিকে নাজমুলের স্ত্রী মুসলিমা বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী যখন মাঠে কাজ করতে গেলে সেই সুযোগে সবার অগচরে বাড়ীতে থাকা ঝাল বিক্রি করা ৫২ হাজার টাকা নিয়ে বাবার বাড়ীতে পালিয়েছে। কৃষক নাজমুল জানায়, তার গরু বিক্রি করা ৫০হাজার টাকা নিয়ে শ্বশুর অস্বীকার করছেন। অন্যদিকে স্ত্রী মুসলিমা গতকাল সকালে বাড়ীতে থাকা ঝাল বিক্রি করা ৫২হাজার টাকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ীতে চলে গেছে। এঘটনার পর টাকার শোকে তার বাবা সাইদুল ইসলাম স্ট্রোক করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, শুক্রবার দুপুরে তার মা মাজেদা বেগম ও নানী কাজলাকে নিয়ে স্ত্রীকে আনতে শ্বশুরবাড়ী লক্ষীপুর যায়। এরপর তার শ্বশুর জামাই নাজমুল ও তার মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করে। এছাড়া নাজমুল ও তার মা মাজেদাকে মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। আর বলতে থাকে তোদের বাড়ীতে আমার মেয়ে আর যাবেনা, তোর সাথে সংসার করবেনা। আমার কাছে কোনো টাকা পাবিনা। এছাড়াও নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় শ্বশুর মিরাদুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: