
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের বগাদিয়া তালতলা এলাকায় প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দিনমজুর মো. বাবুল মিয়া (৫৫)। স্ত্রী, চার ছেলে, দুই কন্যা ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তার পরিবারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে একই ঘরে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা পার করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে, আর শীত এলেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাঁপতে থাকে সবাই। নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, “আগে ল্যাম্প কম্বলের কাজ করতাম। কিন্তু অসুস্থতার কারণে এখন সে কাজ করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে দিনমজুরি করছি। যা আয় হয়, তা বাজার করতেই শেষ হয়ে যায়। এরপর ওষুধ কিনতে হয়।”
তিনি আরও জানান, ‘তার ছেলেরা অটো চালালেও নেশাগ্রস্ত হওয়ায় সংসারে নিয়মিত সহযোগিতা করতে পারছে না। ফলে কোনো দিন একবেলা খেতে পারলেও আরেক বেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঘর মেরামত বা নতুন ঘর করার মতো টাকা জমানোর কথা ভাবতেও পারছেন না তিনি।
অভাবের তাড়নায় প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের কাছে ধার করে দিন চললেও এখন আর কেউ ধার দিতে আগ্রহী নয় বলে জানান বাবুল মিয়া। ছেলেদের সন্তানদের দায়িত্বও এসে পড়েছে তাদের ওপর। এসব কথা বলতে বলতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্নজনের কাছে ঘুরেও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি। ফলে এখন নীরবে কষ্ট সহ্য করেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।’
এলাকাবাসীর দাবি, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বাবুল মিয়ার পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শীত মৌসুমে প্লাস্টিকের ছাউনি ঘরে বসবাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহল।

















