মো. সাইফুল্লাহ খাঁন, জেলাপ্রতিনিধি, রংপুর : রংপুর মহানগরীর ১১নং ওয়ার্ডের রাধাকৃষ্ণপুর মাস্টার পাড়া শহিদ ভাটা রোডসংলগ্ন ধোড়ারপাড় এলাকায় অবৈধভাবে সরকারি গাছ কর্তনের সময় গাছের নিচে চাপা পড়ে এক পথচারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই পথচারী স্থানীয় ডাংঘাট নয়াপাড়া এলাকার মৃত মহিন্দ্র মহন্তের ছেলে কবিরাজ জগদিস মোহন্ত (৪৫) বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কেরানিরহাট এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে গাছ ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম এলাকার একটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের নিকট হতে গাছ ক্রয় করেন। গত ৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টার দিকে গাছ কর্তনকালে গাছের নিচে পড়ে ওই পথচারি গুরুতর আহত হয়। এ সময় গাছ ব্যবসায়ী সহিদুল ও কাজে নিযুক্ত শ্রমিক নুরুজ্জামান তাকে রংপুর মেডিক্যালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার জগদিসকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাজিরহাট মেট্রোপলিটন থানা পুলিশ শ্রমিক নুরুজ্জামানকে মেডিক্যাল থেকে আটক করেন। এসময় গাছ ব্যবসায়ী সহিদুল সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়।
নিহতের পরিরার ও এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার দিন সকালে জগদিস কবিরাজ সুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে সন্ধ্যায় খবর আসে গাছ চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে, যা রহস্যজনক। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই এই নাটক সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে নিহতের পরিবারকে মামলা করা থেকে বিরত রাখেন।
এ ব্যাপারে উভয়পক্ষে সমোঝতার চেষ্টা চলতে থাকে। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিহতের পক্ষে মুকুল, ভোষণ, দুলাল, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন লুতু ও গাছ ব্যবসায়ীর পক্ষে ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুর রহমানসহ উভয় পক্ষের ব্যক্তিবর্গ থানা পুলিশের মাধ্যমে ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি থানা এলাকায় সমাধান করেন বলে গোপন সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে শ্রমিক নুরুজ্জামান আটক হওয়ার দুইদিন পরেও তাকে ছাড়া হয়নি এবং তাকে পুলিশের মাধ্যমে জিম্মি করে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে মর্মে খবর আসলে সাংবাদিকদের ফোন পেয়ে পুলিশ গতকাল রাতে নিরপরাধ নুরুজ্জামানকে থানা থেকে ছেড়ে দেন।
শ্রমিক নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ বিনা কারণে আমাকে হয়রানিমূলক জিজ্ঞাসাবাদসহ থানায় দুই দিন বেআইনীভাবে আটক রেখে আশ্বস্ত করে যে, আপনি শ্রমিক আপনার কিছুই হবেনা, সমস্যার সমাধান করা হলে আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
নুরুজ্জামানের স্ত্রী খাদিজা বেগম জানায়, আমরা জানতে পেরেছি, আমার স্বামীকে জিম্মি করে নিহতের পরিবারকে সহায়তা ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ সমস্যা সমাধান করা হবে বলেই পুলিশকে ফোন করে আমার স্বামীকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন লুতু বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষে ঘটনাটি সমাধান করা হয়েছে।
মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, নিহতের পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না আসায় কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি-৬৯৯ )দায়ের করা হয়েছে। সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে ওই গাছ সরকারি কিনা সেটা আমাদের জানা ছিল না।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মাসুদ কবির বকশী তুহিন জানান, গাছ চুরি ও দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ২৩ জন সদস্য নিয়ে গড়ে ওঠা সবুজ সংঘ বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের অধীনে রাধাকৃষ্ণপুর মাস্টার পাড়া দোড়াপাড় এলাকায় গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে কমিটি রদবদল করে ১২ সদস্যের হাতে সার্বিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ বিক্রি করে আসছেন। বর্তমানে কমিটির সদস্যরা পলাতক আছেন।