আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম :
সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং এর জন্য দরকার স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশ কংগ্রেস আয়োজিত “নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
আজ শনিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আয়োজন করে, পরিচালনা করে না। নির্বাচন পরিচালনা করে সরকারের নির্বাহী বিভাগ। ভোটার তালিকা তৈরী ও তফসিল ঘোষণা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের হাতে আর কিছু নেই। এই নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া কোন সংস্কারই সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অ্যাড. কাজী রেজাউল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘ভোট দিতে হবে দলকে, ব্যক্তিকে নয়। আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে এবং সকল নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত অ’সৎ ও দু’র্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের মাধ্যমে অযোগ্য, মেধাহীন ও দু’র্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন বিস্তার লাভ করে।’
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাড. মো. ইয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, সিনিয়র অ্যাড. সুব্রত চেীধুরী (গণফোরাম), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, বাংলাদেশ জাসদ’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট’র সভাপ্রধান আবু লায়েস মুন্না, বাংলাদেশ গণআজাদী লীগ’র সভাপতি মোহাম্মদ আতাউল্লাহ খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি’র মহাসচিব অ্যাড. জাফর আহমেদ জয়, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. গোলাম রহমান ভূইয়া ও রাষ্ট্রচিন্তক মো. আসাদুজ্জামান।
বক্তারা বলেন, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতি গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, দুই বারের বেশি কারও রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়।
গোলটেবিল আলোনায় বাংলাদেশ কংগ্রেসের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অ্যাড. মোঃ আব্দুল আওয়াল, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও অ্যাড. মো. মিজানুর রহমান, দলের ন্যাশনাল সিনেটের সদস্য সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল মোর্শেদ, বন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম. তাহের উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মো. তুষার রহমান, কৃষি, খাদ্য ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ, যোগাযোগ ও বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মো. আজিজুল হক সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু, সমাজ সেবা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মোঃ মাইনুল ইসলাম এবং নারী, শিশু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, মহানগর, জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।