
শেখ মোঃ সাইফুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিকদের নিকট থেকে সরকারি ভাতা দেয়ার কথা বলে শ্রমিকদের নিকট থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । করোনা ভাইরাসে কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে শ্রমিকদের জন্য ভাতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেই সুযোগে গাইবান্ধায় রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা শ্রমিকদের সরকারি ভাতা তালিকাভুক্তির নামে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা ।
শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে গাইবান্ধা জেলায় গত ১০ এপ্রিল এ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। ফলে তারা খেয়ে না খেয়ে ঘরবন্দি থাকলেও, এই দু:সময়ে সরকার ছাড়া আর কেউ নেই তাদের পাশে। সরকারিভাবে সামান্য চাল, ডাল ও আলু সহায়তা পেলেও অনেকেই সরকারি-বেসরকারি কোনো সংগঠনের খাদ্য সহায়তা ভাগ্যে জোটেনি। ফলে তারা সরকারি ভাতা পাওয়ার আশায় প্রতিদিন ঘুরছেন সংগঠনের নেতাদের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু নেতারা এই ভাতা তালিকাভুক্তিতে জন প্রতি লাইসেন্স করার দাবি করছেন ৩শ’ টাকা, এ যেন মরার ওপর খরার ঘাঁ। আবার অনেকেই তাদের দাবিকৃত টাকা ধার দেনা করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ।
সরকারি ভাতা তালিকাভুক্তিতে শ্রমিকদের নিকট থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ টি অস্বীকার করে সংগঠনটির সভাপতি শাহ আলম মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, করোনায় জেলা লকডাউন ঘোষণার পর থেকে রিক্সা শ্রমিকরা খুব কষ্টে দিন পার করছেন । সংগঠনের পক্ষে এতোগুলো অভাবী মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সার্মথ্য নেই। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিন্তু এখনও কোনো চিঠিপত্র আমরা পাইনি। তাই তালিকা করার প্রশ্নেই আসেনা, তবে এই ঘোষণা শুনে প্রতিদিনই শ্রমিকরা অফিসে আসেন তাদের নাম তালিকাভুক্তির জন্য। এরমধ্যে আবার অনেকেরই লাইসেন্স নেই, কারো কারো হালনাগাদ নবায়নও হয়নি। তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে লাইসেন্স ও নবায়ন করতে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা লকডাউন ঘোষণার ১২ দিন চলছে। ফলে দিন এনে দিন খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে চরম খাদ্য সংকটে। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও পড়েছে মহাবিপাকে। অবশ্য বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তি এসব নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী হিসেবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে । কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই অ-প্রতুল।
এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী ও সচেতন মহল প্রকৃত শ্রমিকদের পূর্বের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, শ্রমিকদের সরকারি ভাতার তালিকা তৈরীর জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।