
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি >>
ওই মিয়া কথা কানে যায় না, ছবি তুলেন ক্যা ? পুলিশের হাতে আটক এক শিশু যৌন নির্ষাতনকারীর ছবি তোলার সময়ে সাংবাদিকদের সাথে এমন অশোভন আচরণ করেন কালীগঞ্জ থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন। রোববার সকালে কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া গ্রামে পুলিশ কর্তৃক আটক যৌন নির্ষাতনকারী আবদুল কাদিরের ছবি তুলতে গিয়ে ওই দারোগার রোষানলের স্বীকার হন দুই সাংবাদিক।
৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক ও দৈনিক যশোর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জানায়, এক শিশু ধর্ষন চেষ্টা ঘটনার খবর পেয়ে সহকর্মী জয়যাত্রা টেলিভিশনের সাংবাদিককে নিয়ে রোববার সকাল ১২ টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া গ্রামে যায়। সাংবাদিকগণ সেখানে গিয়ে বাড়িতে আটকে রাখা শিশু নির্ষাতনকারী আবদুল কাদের ও শিশুটির পিতা মাতার সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময়ে থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন পুলিশ ফোর্স নিয়ে ওই বাড়িতে আসে। তিনি অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যাবার কালে ৭১ টিভির সাংবাদিক ছবি তুলছিলেন। এ সময় ওই দারোগা তেড়ে এসে ছবি তোলা নিয়ে মুখ খিস্তি করে অশোভন আচরণ করেন। সাংবাদিকগণ দারোগার এহেন আচরণের বিষয়টি কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহকর্মী ও অন্নান্য সিনিয়র সাংবাদিকদের অবহিত করেন। সাংবাদিকরা তাৎক্ষনিক ওই দারোগার বিষয়টি কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলীকে জানালে তিনি বিষয়টি জেনে শুনে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দারোগা দেলোয়ার হোসেন কালীগঞ্জ থানাতে যোগদানের পর থেকেই নানা দুর্নীতিসহ সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সাথে অশোভন আচরণ করেই চলেছেন। তার বিরুদ্ধে একের পর এক এমন অপকর্মের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওই দারোগা। বার বার এমন অপকর্মে তার খুঁটির জোর কোথায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অনেকে। গত মাসে ওই দারোগা অর্থ বাণিজ্য করেও শিশুসহ মাকে জেলহাজতে পাঠানোর সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় সে সময়েও ক্ষিপ্ত হয়ে থানা অভ্যন্তরেই আরো এক সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরণ করেছিলেন। এ নিয়ে একের পর এক ওই দারোগা কর্তৃক অশোভন আচরণসহ নানা অনিয়মের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার খুঁটির জোর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কালীগঞ্জবাসী। এদিকে সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণের জন্য নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ ওই দারোগার বিচার দাবী করেছেন।