সম্পাদকীয়
প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা নতুন সরকারের প্রধান কাজ। কারণ একটি নির্বাচিত সরকারের সফলতা, ব্যর্থতা এবং ভবিষ্যতের পথ চলা নির্ভর করে একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন যন্ত্রের ওপর। আর সেই প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসর, সুবিধাভোগী, বিতর্কিত, তাদের অর্জিত সম্পদের হিসাব, নামে-বেনামে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজদের সম্পদের হিসাব, তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস, বিগত দিনের কর্মকাণ্ড, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ছাত্রজনতাকে হত্যর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং রূপ পরিবর্তনকারীদের শিঁকড় বিবেচনা না করে তাদেরকে পদোন্নতি প্রদান করা হলে,
এক সময় তারা বর্তমান সরকারের জন্য বিষ ফোঁড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে, ব্যাহত হতে পারে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ব্যর্থ হতে পারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করার স্বপ্ন। সুতরাং গত ১৭ বছরে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন বাহিনী এবং সিভিল প্রশাসনে চাকরিরত অবস্থায় যাঁরা পদবঞ্চিত এবং যারা চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন তাদেরকে খুঁজে বের করে সঠিক জায়গায় বসানোই হতে বর্তমান সরকারের সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাছাড়া পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইপূর্বক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রশাসনে সঠিক লোক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে সেগুলো হলো-
১. প্রার্থী সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং বর্তমানে সম্পৃক্ত আছেন কি না?
২. তার পরিবার ও নিকটাত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে অতীতে কেউ কোনো দলের পদবিধারী ছিল কি না এবং বর্তমানে কোনো পদে আছেন কি না?
৩. তার চাকরি কোন সরকারের আমলে হয়েছিল ?
৪. ওই সরকারের আমলে চাকরিকালীন তার পদোন্নতি সঠিক নিয়মে হয়েছিল কি না?
৫. চাকরিতে যোগদানকালে তার কী পরিমাণ সম্পদ ছিল এবং বর্তমানে সম্পদের পরিমাণ কত?
৬. তার নিকটাত্মীয়দের সম্পদ অতীতে কত ছিল, বর্তমানে কত এবং অর্জিত সম্পদের বৈধ উৎস কী?
৭. প্রার্থী পতিত সরকারের আমলে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না?
৮. করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে?
৯. প্রার্থীর নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কে, কোন বিভাগে কর্মরত আছেন?
১০.পতিত সরকারের আমলে তারা পদোন্নতিসহ কী কী সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন এবং সেগুলো বৈধ ছিল কি না?
১১. বর্তমানে তারা ক্ষমতাশীন দলের লোক সেজে এবং তাদের ব্যবহার করে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন কি না?
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসবে, পদবঞ্চিতরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে। তা নাহলে যেকোনো সময় সরকার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
















