ফেনীতে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা উধাও

ক্রাইম পেট্রোল ডেস্ক>> ফেনীতে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন ঢাকা ব্যাংক’র গোলাম সাঈদ রাশেব নামে এক কর্মকর্তা। টানা তিন দিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার ব্যাংকে ভিড় করে গ্রহকরা। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা লাখ লাখ টাকা খুইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা ব্যাংকের ফেনী শাখা চালু হলে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বড় বাড়ির মৃত আজিজুল হক ভূঁইয়ার ছেলে গোলাম সাঈদ রাশেব এ শাখায় দুই মেয়াদে প্রায় ৯ বছর চাকরি করেন। পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ফেনী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার (ক্রেডিট) পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় চাকরির সুবাদে এখানকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আস্থাভাজনে পরিণত হন তিনি। গ্রাহকরা অন্ধ বিশ্বাসে তার কাছে চেক, নগদ অর্থ ও ঋণের কিস্তির টাকা দিয়ে যেতেন।

বিশ্বস্ততার সুযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে নিজে ও অপরাপর কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যাংকের ব্লাংক চেক সংগ্রহ করেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ১২ মার্চ মঙ্গলবার ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার উর্ধ্বতনদের লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করেন। পরদিন যথারীতি অফিসে এসে সকাল সাড়ে দশটার পর বাইরে গিয়ে উধাও হয়ে যান ওই কর্মকর্তা। টাকা উত্তোলনের ম্যাসেজ পেয়ে বৃহস্পতিবার দুএকজন গ্রাহক ব্যাংকে অভিযোগ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

জানা গেছে, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর গ্রামের মাহবুবুল হক রিপনের একাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় ৩৪ লাখ টাকা। তিনি অভিযোগ করেন, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের অধীনে ব্যাংকের এ শাখায় ৫ কোটি টাকার ঋণ চলমান রয়েছে। ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে দুটি ব্লাংক চেক নেন চতুর গোলাম সাঈদ রাশেব। পরে একাউন্ট চেক করে দেখা যায় এ দুটো চেক ব্যবহার করে টাকাগুলো উত্তোলন করা হয়েছে।

তার ছোট ভাই ফজলুল হক পলাশের মুনতাসির এন্টারপ্রাইজ নামীয় একাউন্ট থেকে ৪২ লাখ টাকা একই কায়দায় তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফেনী বাজারের কাপড়ের ব্যবসায়ী অজয় কুমার বণিকের ৭০ লাখ টাকা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাচ্চুটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন মজুমদারের ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক মাহবুবুল হক রিপন বলেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব। তিনিসহ ব্যাংকের উপস্থিত অন্য গ্রাহকরা ঠিক কতজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন তথ্য দিতে না পারলেও ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত টাকা খোয়া গেছে মর্মে প্রায় ১৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে হিসেবে ব্যাংকিং লেনদের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে গোলাম সাঈদ রাশেবের সাথে অনেক গ্রাহকের ব্যক্তিগত লেনদেন রয়েছে বলে অনেকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ব্যাংকের ফেনী শাখার ম্যানেজার আখতার হোসেইন সরকার জানান, ঠিক কতটি একাউন্ট থেকে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে এটি বলা মুশকিল। গ্রাহকরা মৌখিক ও লিখিতভাবে জানাচ্ছেন। ঢাকা থেকে আইটি এক্সপার্ট আসছেন। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি চিহ্নিত করা যাবে। প্রধান কার্যালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক কথা বলে বিষয়টি দ্রুত নিস্পত্তি করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামতে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ব্যাংক ব্যাবস্থাপক।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের অনুসরণ করোন

ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন টুইটার আমাদের অনুসরণ করুন Google+ এ আমাদের অনুসরণ করুন ইউটিউব আমাদের সদস্যতা নিন