
মোঃ আল আমিন,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ঝাউগারচর কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়মিত উপস্থিতির সুযোগে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। মাসে মাত্র এক হাজার টাকা সম্মানীতে আলপনা (৪০) নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিক খোলা-বন্ধ, রোগীদের ওষুধ দেওয়া ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের ঝাউগারচর ও আলশাহী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি মো. হাসান ফারুক ও এফডব্লিউএ রাজিয়া সুলতানা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তারা মাঝে-মধ্যে ক্লিনিকে এলেও অধিকাংশ সময় ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু রাখার দায়িত্ব পড়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আলপনার ওপর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলপনা প্রতিদিন ক্লিনিক খুলে দেওয়া, বন্ধ করা, রোগীদের ওষুধ বিতরণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করে থাকেন। তবে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে ওষুধ বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, কোন রোগীকে কোন ওষুধ দিতে হবে, কী মাত্রায় ও কতদিন ব্যবহার করতে হবে—এসব বিষয়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি জরুরি। তাই এ ধরনের দায়িত্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে পরিচালিত হলে রোগীরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে ক্লিনিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চরফরাদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মাসুদ মিয়া এবং কমিটির সদস্য মো. মোন্তাজ উদ্দিন মুন্তা বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝাউগারচর কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং ভবনের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিনের অযত্নের ছাপ রয়েছে।
স্থানীয়রা ঝাউগারচর কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের উপস্থিতি, ওষুধ বিতরণের নিয়ম, ওষুধের মজুত ও বিতরণ রেজিস্টার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার কাজ করানোর অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সিএইচসিপি মো. হাসান ফারুক ও এফডব্লিউএ রাজিয়া সুলতানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
এদিকে, কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’















