মো. আক্তার হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার হোমনায় ট্রিপল মার্ডারের ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নি পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
আজ বুধবার উপজেলার মনিপুর বজারে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় কয়েকশত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা উক্ত ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এর ব্যত্যয় ঘটলে হোমনাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন করারও হুঁশিয়ারি দেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পূর্বে ভিকটিম পাপিয়া আক্তার সুখী এর প্রবাসী স্বামী মো. জহিরুল ইসলামের নিকট সৌদিআরব প্রবাসী শ্রীপুর গ্রামের এক বন্ধু জহিরুলের স্ত্রীর একটি আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ পাঠায়। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে ব্যক্তি ভিডিওটি তার বন্ধুর কাছে পাঠায় তাকে মোবাইল ফোনে উক্ত ভিডিওটি ডিলিট করার হুমকিও দেয় জহিরুল। পাপিয়া আক্তার নিহত হওয়ার প্রায় ১৫/২০ দিন আগে পাপিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটিও স্থানীয় একজন ব্যক্তি ভেঙ্গে ফেলে। এছাড়াও যে ব্যক্তি মোবাইল সেটটি ভেঙ্গে ফেলেছিল সে ব্যক্তিই পাপিয়ার কাছে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য টাকা দাবি করে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, মনিপুর গ্রামের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ক্লুলেস নয়। নিহত পাপিয়ার আক্তারের স্বামীই মূল ক্লু। তার মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করলেই এ ঘটনার আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। জহিরুল ইসলাম তার কাছে তার শ্রীপুর গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী বন্ধুর মাধ্যমে জহিরুলের স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও পাঠানোর কথা, তার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল সেট ভেঙ্গে ফেলার কথা এবং স্থানীয় একজনকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য টাকা দাবি করার কথাও আমার কাছে স্বীকার করেছে। ঘটনার প্রায় ১৫/১৬ দিন পার হওয়ার পরেও পুলিশ কেন কাউকে গ্রেফতার করতে পারছে না বিষয়টি বোধগম্য নয়। প্রশাসনের কাছে আমার আহ্বান থাকবে এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।
এ বিষয়ে হোমনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, 'বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।'
এ ঘটনায় কোনো ক্লু পেয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
প্রসঙ্গত, (গত ১৬ ফেব্রুয়ারি,২০২৬ খ্রি.) সোমবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুর গ্রামের জয়নুদ্দিন মুন্সীর বাড়িতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন— উত্তর মনিপুর গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখি (৩২), তাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে হোসেন এবং জহিরুল ইসলামের ছোট ভাই প্রবাসী আঃ সাত্তার মিয়ার ৫ বছর বয়সী ছেলে জুবায়ের।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি: প্রফেসর নূর মো. রহমত উল্লাহ। নির্বাহী সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো. ওমর ফারুক, উপ-সম্পাদক : মুন্সী নাজমুল হোসেন
ইমেইল: mdibrahimkhalil494@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৪-২২২৫০২
অফিস : শ্রীমদ্দি মোড়ের বাজার, হোমনা, কুমিল্লা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. ইব্রাহিম খলিল কর্তৃক কুমিল্লা জেলা থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত।