মো. আক্তার হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার হোমনায় ট্রিপল মার্ডারের ৩৩ দিন অতিবাহিত হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নি পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় ইতিপূর্বে দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
উক্ত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় কয়েকশত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা উক্ত ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এর ব্যত্যয় ঘটলে হোমনাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন করারও হুঁশিয়ারি দেন।
এরপর পুলিশ প্রথম দফায় উত্তর মনিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শহিদুল্লাহ এবং তার পুত্র মো. তামিমকে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে গত সপ্তাহ খানেক আগে পুনরায় উক্ত দুইজনকেই থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে রাতেই মো. শহিদুল্লাহ কে ছেড়ে দিলেও তার পুত্র তামিমকে পরের দিন বিকেল ৪ টার দিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মো. শহিদুল্লাহ।
মো. শহিদুল্লাহ বলেন, 'হোমনা থানা পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তরিকভাবে কাজ করছেন এবং আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।'
এ বিষয়ে পাপিয়া আক্তার সুখীর স্বামী মো. জহিরুল ইসলামের কাছে এই হত্যকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ' পুলিশ কাজ করছে, আসামি তো পুলিশ ধরবে, আমরা তো ধরে দিতে পারবো না।'
এ হ*ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক দিন পার হয়ে গেল কিন্তু এখনও কেউ গ্রেফতার হয় নি। আপনি পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্ট কিনা- এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, 'না, আমি সন্তুষ্ট নই।'
তিনি আরও জানান, 'যে বিল্ডিংয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে আমি এখন ভয়ে রাতের বেলা সেই বিল্ডিংয়ে থাকি না, আমার ভাইয়ের ঘরে থাকি।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, 'এমন একটি ঘটনায় অনেক দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় আমরা আতঙ্কিত ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের ঘরের মহিলারা এখন প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে গেলেও কাউকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়।'
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ হ*ত্যাকাণ্ডের ঘটনার পূর্বে ভিকটিম পাপিয়া আক্তার সুখী এর প্রবাসী স্বামী মো. জহিরুল ইসলামের নিকট সৌদিআরব প্রবাসী শ্রীপুর গ্রামের এক বন্ধু জহিরুল ইসলামের স্ত্রীর একটি আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ পাঠায়। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে ব্যক্তি ভিডিওটি তার( জহিরুলের) বন্ধুর কাছে পাঠায় তাকে মোবাইল ফোনে উক্ত ভিডিওটি ডিলিট করার হুমকিও দেয় জহিরুল। পাপিয়া আক্তার নিহত হওয়ার প্রায় ১৫/২০ দিন আগে পাপিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটিও স্থানীয় একজন ব্যক্তি ভেঙ্গে ফেলে। এছাড়াও যে ব্যক্তি মোবাইল সেটটি ভেঙ্গে ফেলেছিল সেই ব্যক্তিই পাপিয়ার কাছে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, 'মনিপুর গ্রামের ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ক্লুলেস নয়। নিহত পাপিয়ার আক্তারের স্বামীই মূল ক্লু। তার মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করলেই এ ঘটনার আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। জহিরুল ইসলাম তার কাছে তার শ্রীপুর গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী বন্ধুর মাধ্যমে জহিরুলের স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও পাঠানোর কথা, তার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল সেট ভেঙ্গে ফেলার কথা এবং স্থানীয় একজনকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য টাকা দাবি করার কথাও আমার কাছে স্বীকার করেছে। ঘটনার প্রায় ১ মাস পার হওয়ার পরেও পুলিশ কেন কাউকে গ্রেফতার করতে পারছে না বিষয়টি আমি বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে আমার আহ্বান থাকবে এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।'
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত জানান, 'এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আমরা এখনও কোনো ক্লু খুঁজে পাই নি।'
বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম, এ ঘটনায় মনিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শহিদুল্লাহ এবং তার পুত্র তামিমকে রাতের বেলা দুই দফায় থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করছেন। প্রথম দফায় দুইজনকে জিজ্ঞাবাদ শেষে রাতেই ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় দফায় মো. শহিদুল্লাহ কে রাতে ছেড়ে দেয়া হলেও তার পুত্র তামিম কে পরের দিন বিকেল ৪ টার দিকে ছেড়ে দিয়েছেন। এসময় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পেরেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও শনাক্ত করা যায় নি।'
এ বিষয়ে হোমনা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদ আলম চৌধুরীর কাছে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ ঘটনায় এখনও কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যায় নি।'
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর মনিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. শহিদুল্লাহ এবং তার পুত্র তামিমকে দুই দফায় রাতে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রথম দফায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই মো. শহিদুল্লাহ কে ছেড়ে দেয়া হলেও তার পুত্র তামিম কে পরের দিন বিকেল ৪ টায় ছেড়ে দিয়েছেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পেরেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'প্রতিদিনই তো জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এখনও পর্যন্ত আপনাকে দেয়ার মতো কোনো তথ্য নেই। তথ্য পেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনি এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।'
প্রসঙ্গত, (গত ১৬ ফেব্রুয়ারি,২০২৬ খ্রি.) সোমবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুর গ্রামের জয়নুদ্দিন মুন্সীর বাড়িতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন— উত্তর মনিপুর গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী (৩২), তাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে হোসেন এবং জহিরুল ইসলামের ছোট ভাই প্রবাসী আঃ সাত্তার মিয়ার ৫ বছর বয়সী ছেলে জুবায়ের।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি: প্রফেসর নূর মো. রহমত উল্লাহ। নির্বাহী সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো. ওমর ফারুক, উপ-সম্পাদক : মুন্সী নাজমুল হোসেন
ইমেইল: mdibrahimkhalil494@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৪-২২২৫০২
অফিস : শ্রীমদ্দি মোড়ের বাজার, হোমনা, কুমিল্লা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. ইব্রাহিম খলিল কর্তৃক কুমিল্লা জেলা থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত।