
আল মাসুদ, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি : দেশের সর্বভৌমত্বের উত্তর জনপদের জেলা পঞ্চগড়। সীমান্ত এই জেলায় একমাত্র চর্তুদেশীয় স্থলবন্দর তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা। যোগাযোগের মূল ভুমিকায় ভারত,নেপাল,ভুটান থেকে ফেরৎ পাসপোর্ট,ট্রাক ও হেলপার যাত্রীদের জন্য নভেল করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণে মেডিক্যাল টিম বসানোর পরেও উৎকন্ঠায় ও আতঙ্কে বসবাস করছে স্থানীয় এলাকাবাসীরা।
বন্দরে সরজমিনে দেখা যায়, পঞ্চগড় সিভিল সার্জন অফিস থেকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে ভারত,নেপাল,ভুটান থেকে আসা বাংলাদেশে প্রবেশকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে পণ্যবাহী ট্রাক চালক ও হেলপার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই প্রবেশ করছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে।
এদিকে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের খবর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে পুরো জেলায়। পরীক্ষা ছাড়াই ট্রাক চালক ও হেলপারদের মাধ্যমে যে কোন সময় এই বন্দরে দিয়ে প্রবেশ করতে পারে মহামারি নভেল করোনা ভাইরাস বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় এলাকা বাসী হাসান ও কবির হোসেন জানান, পণ্যবাহী ট্রাক চালক ও হেলপাররা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই সীমান্তের নিকটবর্তী হোটেল ও দোকানগুলোতে খাবার খেয়ে থাকে এবং অবাধে সাধারণ মানুষদের সাথে চলাফেরা করে থাকে। এতে খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারে করোনা ভাইরাস। তারা মনে করেন চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করলে আতঙ্ক কাটবে না।সম্প্রতি এশিয়া মহাদেশের চীনে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় রোগ প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি ইমিগ্রেশনের মত তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বসানো হয়েছে মেডিক্যাল টিম। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি না থাকায় শুধু মাত্র হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে প্রাথমিকভাবে পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার ২৮ জানুয়ারি পঞ্চগড় সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য বিভাগ বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের একটি কক্ষে মেডিক্যাল টিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্ক্যানার না থাকায় প্রায় ১১ দিন ধরে দুইটি থার্মোমিটার দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে ৭ ফেব্রয়ারি থেকে নতুন করে মিনি হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে চলছে মেডিক্যাল ক্যাম্পের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম।
মেডিক্যাল ক্যাম্পের স্বাস্থ্য সহকারী পরিদর্শক মো. আজিজার রহমান জানান, সকল পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আসছি। যাত্রীদের মধ্যে জ্বর বা সর্দি এমন কিছু দেখা দিলে তাৎক্ষণিক রেফার্ড করা হবে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে। তবে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় নাই।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আলতাফ হোসেন জানান, প্রতিদিন যে সব পাসপোর্টধারী যাত্রী প্রবেশ করছে তাদেরকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা শেষ করছি। তবে ভারত,নেপাল থেকে ট্রাক চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে কিনা আমি জানি না।
এদিকে পঞ্চগড় আমদানি-রপ্তানি কারক এসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা তিনি জানান, বন্দর কর্তৃকপক্ষের বিষয় তারা যদি মনে করে ট্রাক চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে আমরাও সহযোগিতা করবো।
এব্যাপারে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য থার্মাল স্ক্যানার দেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু প্রাথমিকভাবে জ্বর ও সর্দির রোগী দেখছি। ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে কিনা সেই বিষয়টি ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।