কামরুল হক চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি:>
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খালিশা এলাকার তৃতীয় শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে নি’র্যাতনকারী ধ’র্ষক মাওলানা নাছির উদ্দীন পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)- ১১ এর সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে দাউদকান্দি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ধ’র্ষক মাওলানা নাছির উদ্দীন পাটোয়ারী মোহাম্মাদিয়া মিসবাউল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন ধ’র্ষক মাওলানা নাছির পাটোয়ারী। আজ শনিবার দুপুরে তাকে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশু শিক্ষার্থীর বাবা একজন প্রবাসী এবং মা গৃহিনী। ভিকটিম ও তার ভাই দাউদকান্দির খালিশা গ্রামের মোহাম্মাদিয়া মিসবাউল উলুম মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রয়েছে। গ্রেফতার মাওলানা নাছির পাটোয়ারী ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক। গত ৪ জুলাই ভিকটিম ও তার ভাই মাদ্রাসায় ক্লাস করতে যায়। ওইদিন আবহাওয়া খারাপ থাকায় এবং বর্ষণের কারণে মাদ্রাসার অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল। ধ’র্ষক নাছির পরিবারসহ মাদ্রাসার পিছনের একটি বাড়িতে বসবাস করতো এবং ঘটনার দিন আসামীর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অনুপস্থিত ছিল। এই সুযোগে ভিকটিমকে ঘর ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে ডেকে নিয়ে ধ’র্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মে’রে ফেলার হু’মকি দেন। বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম কান্নাকাটি করলে এক পর্যায়ে তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। ঘটনা জানাজানির সাথে সাথেই পালিয়ে যান মাওলানা নাছির পাটোয়ারী। পরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। ইতোমধ্যেই তাকে গ্রেফতারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে আসছিলো এলাকাবাসী।
র্যাব-১১ কুমিল্লা সিপিসি-২ এর উপ-পরিচালক লেঃ কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধ’র্ষণের কথা স্বীকার করেছেন নাছির পাটোয়ারী। আসামিকে দাউদকান্দি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ধ’র্ষক মাওলানা নাছির পাটোয়ারীকে র্যাব- ১১ এর সদস্যরা আটক করে দাউদকান্দি মডেল থানায় হস্তান্তর করেছেন । আজ আসামি কে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।