মোঃ আল আমিন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে আগের তুলনায় কমেছে ভবঘুরে ও ছিন্নমূল মানুষের আনাগোনা। একই সঙ্গে স্টেশন চত্বরের পরিবেশেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। প্ল্যাটফর্ম, যাত্রীদের চলাচলের পথ ও অপেক্ষার স্থানগুলো তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন দেখা যাচ্ছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিয়মিত ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয়রা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন অবস্থান করা এক ভবঘুরে ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সময় স্টেশন মাস্টার মো. খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, "স্টেশনে সাধারণত কোনো ভবঘুরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।"
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে স্টেশন চত্বরের বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে ও ছিন্নমূল মানুষের অবস্থান, ময়লা-আবর্জনা এবং অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে নিয়মিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত না থাকলে আবারও আগের চিত্র ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
রেলস্টেশনের পরিবেশ নিয়ে কথা হয় কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানা (জিআরপি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বাহাউদ্দীন ফারুকীর সঙ্গে।
তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন জেলার গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখান থেকে ট্রেনে যাতায়াত করেন। ফলে স্টেশনের পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, “রেলওয়ে থানা পুলিশ এ ব্যাপারে সোচ্চার। এক সপ্তাহে দুটি ঘটনায় মাদক বিক্রেতাদের আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে জেলহাজতে আছে। স্টেশনকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। জানি না কতটুকু পারছি, তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
নিয়মিত ট্রেনযাত্রী ও জিবিসি টিভির প্রতিবেদক মোঃ আল-আমীন বলেন, "স্টেশনের পরিবেশ আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও নজরদারি প্রয়োজন।"
স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ দুলাল মিয়া বলেন, "স্টেশনে যাত্রীদের যাতায়াত অনেক বেশি। তাই ময়লা-আবর্জনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবঘুরে ও মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি থাকা দরকার।"
নির্মাণ প্রকৌশলী গোলাপ মিয়াও স্টেশনের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার এই পরিবেশ যেন সাময়িক না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিতে হবে।"
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাউকে শুধু স্টেশন থেকে সরিয়ে দেওয়াই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, সামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে স্টেশনে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করেন। তাই স্টেশনের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা যাত্রীসেবা, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এখন দেখার বিষয়, কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, তা নিয়মিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কতটা টেকসই হয়।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি: প্রফেসর নূর মো. রহমত উল্লাহ। নির্বাহী সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো. ওমর ফারুক, উপ-সম্পাদক : মুন্সী নাজমুল হোসেন
ইমেইল: mdibrahimkhalil494@gmail.com মোবাইল: ০১৭৫৪-২২২৫০২
অফিস : শ্রীমদ্দি মোড়ের বাজার, হোমনা, কুমিল্লা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. ইব্রাহিম খলিল কর্তৃক কুমিল্লা জেলা থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত।