হোমনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব পালন

মোসারফ হোসেন, হোমনা প্রতিনিধি>>
ষড় ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। পৃথিবীর আর কোনো দেশের প্রকৃতিতে ছয় ঋতুর মোহনীয় রূপ ফুটে উঠে না। প্রতিটি ঋতুর আলাদা আলাদা রূপ ও রস মিইয়ে যায় প্রকৃতিতে। শীতের শেষেই আগমন ঘটে ঋতুরাজ বসন্তের। ফাল্গুন- চৈত্র -এ দুমাস বসন্তকাল। এ সময় কঠিন হয়ে পড়া সাদা মাটির ওপর মরা পাতার মর্মর ধ্বনির মাঝে সবুজেরা পাখা মেলে। নানা রঙের ফুলের সমারোহে আবিষ্ট প্রকৃতি সেজে উঠে নব বধুর সাজে। তাইতো বলি ‘আগুনলাগা ফাগুন’ ফুলে ফুলে ছাওয়া এ ঋতুর এমন মোহনীয় নির্যাসে দোল খেলে মানব মনকে করে আন্দোলিত।
পয়লা ফাল্গুন এলেই প্রেমিকেরা আরও পাগল হয়ে যায়। ঋতুরাজ বসন্তকে আরও মোহনীয়, আরও ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে পয়লা ফাল্গুনে লোকজ সংস্কৃতির চিরায়ত আবহে সরকারি- বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজন করে থাকে। এ ধারায় এগিয়ে এলো কুমিল্লার হোমনা উপজেলা প্রশাসনও। উপজেলা প্রশাসন আয়োজন করেছে পিঠা উৎসবের। মানুষের মনে আনন্দের হিল্লোল তুলে এ উৎসবকে সাজিয়েছে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আয়োজনে পাশে থেকেছে প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত মননশীল শিশু প্রতিভা বিকাশের পথিক টিউলিপ ইনস্টিটিউট।
সম্মিলিতভাবে রবীন্দ্র সংগীত ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়’ গেয়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী। অনুষ্ঠানে ‘… স্বপ্নে তোকে এগিয়ে দিই যদি/ তোর বরের তাতে কি যায় আসে?/ সত্যি বলছি, বিশ্বাস করবি না/ স্বপ্নে আমার চোখেও জল আসে’ কবি জয় গোস্বামীর ‘স্বপ্নে’ কবিতা আবৃত্তি করেন- হোমনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোর্শেদুল ইসলাম শাজু ও একটি কৌতুক পরিবেশন করেন হোমনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল হক সরকার। প্রাণবন্ত এ অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বারী সিদ্দিকীর একটি গান পরিবেশন করেন। পরে একে একে পুনম, পিউ, তনম, অন্তু, অর্চি, লামিয়া, নুসরাত, ইলমা, সামিয়া- ফাগুনের মোহনায়, সাত ভাই চম্মা, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, তিন দ্বারে পলাশের বোন- পালাবো পালারো কোথায়, কমলা সুন্দরী ইত্যাদি গানের তালে তালে নৃত্য, পুনমের ছড়া গান ‘বুল বুল পাখি-ময়না টিয়ে’, পিউ’র ’দোল দোল দুলুনী’, দিবা ও তনমের রবীন্দ্র সংগীত- ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে’ ও ’বড় আশা করে এসেছিগো কাছে ডেকে লও’, তারিনের লোকগীতি ‘দে দে পাল তুলে দে’ – গানে টিউলিপ কিন্ডারগার্টেনের সংগীত শিক্ষক আইরিন আক্তার ডেইজি হারমোনিয়াম বাজিয়ে, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাহিদ হাসান দাদন তবলা এবং ঢাঁকি সাকিব ঢোল বাজিয়ে সকল শিল্পীদের নৃত্য ও গানে সঙ্গ দিয়ে অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন- উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র বর্মন, টিউলিপ ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক হাসনা হেনা।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- থান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ হোসেন খান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম, প্রকৌশলী মো. জহিরুল হক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা আক্তার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, পিআইও নাহিদ আহমেদ জাকির, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত সমিতি -০৩ এর ডিজিএম মো. আজিজুর রহমান সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রুহুল আমিন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো, বজলুর রহমান, মো. নজুরুল ইসলাম ও খাদিজা আক্তার, তথ্যসেবা কর্মকর্তা হামিয়া কাউসার, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহিদুল হক দেওয়ান, জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী এন এম শামীম, খাদ্য পরিদর্শক আবদুর রহিম মিজি, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, সাব রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ, হোমনা উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন প্রমুখ।
বাঙালী চিরকালই অতিথিপরায়ণ। এ খ্যাতি বাঙালীর চিরকালের সাক্ষী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী পিঠা উৎসবে আগত দর্শক-শ্রোতা ও অতিথিদের পিঠা পরিবেশন করে সকলের মন জয় করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: