হোমনায় ধর্ষণের শিকার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, ধর্ষক আটক

আটক ধর্ষক সুভাষ চন্দ্র দাস।

মো. মোসারফ হোসেন, হোমনা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার হোমনায় নয় বছরের এক শিশুকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সুভাষ চন্দ্র দাস (৫৫) কে আটক করেছে পুলিশ।সোমবার উপজেলার দুলালপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির মা খোরশেদা বেগম বাদি হয়ে ওই দিন রাতে হোমনা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। মেয়েটির উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আজ মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ধর্ষককে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মেয়েটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাবা সৌদি প্রবাসী। মা গৃহিনী।
ধর্ষক সুভাষ এর আগেও একবার মেয়েটিকে একইভাবে ধর্ষণ করেছে বলে মেয়েটির বরাত দিয়ে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোমনা সার্কেল সাইফুর রহমান আজাদ।

সূত্রে জানা যায়, ধর্ষক সুভাষ দুলালপুর বাজারে ওষুধের ব্যবসার পাশাপাশি দুলালপুর সাব পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। সে দুলালপুর, চন্ডিপুর গ্রামের মৃত রাজেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে। শিশুটি ওই দিন দুপুরে বাজার থেকে শ্যাম্পু কিনে তার দোকানের পাশ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দোকানের ভেতরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে তার হাতে ‘সিভিট’ ট্যাবলেট ধরিয়ে দিয়ে এ ঘটনা কারও কাছে না বলার জন্য ভয়-ভীতি ও শাসিয়ে দেয়। মেয়েটিকে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিযে যায় পুলিশ।
মেয়েটির মা জানান, ওই দিন দুপুরে মেয়েটিকে শ্যাম্পু কিনতে দশ টাকা দিয়ে বাজারে পাঠাই। আসতে দেরী দেখে আমি বিভিন্ন রাস্তা ও দোকানে গিয়ে মেয়ের খোঁজ করি। না পেয়ে বাড়ি চলে আসি। অনেক পরে মেয়ে শ্যাম্পু নিয়ে বাড়ি ফিরলে আমি তাকে থাপ্পর দেই। মেয়েটি কান্নাকাটি করতে থাকে। আমি ঘরদোর ঘুচিয়ে মেয়েকে গোসলের জন্য নিয়ে যাই। গোসল করানোর সময় তার বুকে দাগ দেখে- কীসের দাগ জানতে চাই। তখন মেয়ে বলে, ‘আম্মু তুমি মাইরো না। আমি বলি- সুভাষ মামায় ডেকে নিয়ে আমারে এই কা …. করছে।’ মা আরও বলেন, আমিতো মান সম্মানের চিন্তায় অস্থির হইয়া গেছি। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পরে সুভাষ আমার কাছে এসে অনুনয় বিনয় করতে থাকে। আমি তখন বিষয়টি চেয়ারম্যানের কাছে জানালে, তিনি আইনের মাধ্যমে যাওয়ার কথা বলে পুলিশকে জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ডাক্তার মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে দেখেছি। বুকের ডান দিকে কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে আরও অন্যান্য পরীক্ষার নীরিক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি।
এ বিষয়ে দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পরে মেয়েটির মা ও তাদের আত্মীয় ইদ্রিস সরকার মেয়েটিকে সঙ্গে করে আমার কাছে এসে ঘটনা জানায়। ঘটনা শুনে সুভাষকে ডেকে আনি। এসে এ ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য সুভাষ অনুনয় করতে থাকে। মেয়ের চাচাকেও ধর্মের বাপ ডেকে কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করে। বিষয়টি আমি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে সুভাষকে থানায় নিয়ে যায়।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতার করেছি। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: