হোমনায় সার্কেল এএসপি’র নেতৃত্বে নিখোঁজের ১২দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার


মো. ইব্রাহিম খলিল, হোমনা, কুমিল্লা :

কুমিল্লার হোমনায় নিখোঁজের ১২ দিন পর (হোমনা-মেঘনা) সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো.ফজলুল করিমের নেতৃত্বে ফয়সাল (১৮) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ । আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন,২০২০ খ্রি.) সন্ধ্যা ৭ টায় দুলালপুর আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের নীচ তলার একটি কক্ষের মাটির নিচ থেকে জবাই করা বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুলালপুর ইউনয়িনের রাজনগর গ্রামের মুকবল মিয়ার ছেলে ফয়সাল (১৮) এর সাথে একই গ্রামের ফুল মিয়ার মেয়ে মেহেদী আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল । ফয়সাল ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকুরী করে । প্রেমের টানে প্রায়ই সে বাড়ি চলে আসত । এ বিষয়টি মেয়ের পরিবার মেনে নিতে পারত না । এ নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে মনোমালিন্য চলে আসছিল । গত (৫ জুন,২০২০খ্রি.) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ভিকটিম ফয়সাল তার মামা নজরুল ইসলামের বাসার ছাদে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল । হঠাৎ একটা ফোন আসলে সে চলে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

(হোমনা-মেঘনা) সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুল করিম বলেন, গত ৫জুন,২০২০ খ্রি. তারিখ রাত অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে ভিকটিম ফয়সাল তার মামা নজরুল ইসলামের বাসার ছাদে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ একটা ফোন আসলে সে চলে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় গত ৭ জুন,২০২০ খ্রি. তারিখে হোমনা থানায় সাধারণ ডায়েরী করলে আমরা তদন্ত শুরু করি। গত ৯ জুন,২০২০ খ্রি. তারিখে মেয়েটির মা ( যার সাথে ছেলেটির সম্পর্ক) রক্তমাখা পলিথিনের বস্তা খালের পানিতে পরিস্কারের খবর পেয়ে আমরা গিয়ে জব্দ করি এবং সন্দেহ ঘনীভূত হয়।এ ঘটনায় গত ১৩ জুন,২০২০ খ্রি. তারিখে হোমনা থানায় অপহরণ মামলা হয়। উল্লেখ্য, জিডি হওয়ার সাথে সাথে পুলিশ সুপার কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়ের সরাসরি দিঙ নির্দেশনায় আমি, ডিবি কুমিল্লা, হোমনা থানা পুলিশ কাজ শুরু করি। প্রযুক্তির সহায়তায় আজ দুপুর ১ টায় মেয়েটির ভাইকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যমতে আমিরুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মিতব্য বিল্ডিংয়ের নিচতলায় বালুর নিচ হতে ভিকটিম এর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে বোঝা যাবে আর কারা কারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত, আর কী উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে ।



ভিকটিমের লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) ইফতিয়ার হোসেন, ওসি মো. আবুল কাযেস আকন্দ, ওসি (তদন্ত) আমিনুর রসুল, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) পরিমল চন্দ্র দাস পিপিএমসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: