সুন্দরগঞ্জে মাদক,সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত

সুন্দরগঞ্জে মাদক,সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী আলোচনা সভা

মো. আনিছুল করিম, জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা :   ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ, মাদক মুক্ত করব দেশ।’ এ -প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এআরবি অনলাইন সার্ভিসের আয়োজনে ও পৌর জাতীয় যুবসংহতির সভাপতি শাহীন প্রামানিক এর সভাপতিত্বে রোববার (অক্টোবর ২৭) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ১নং বেকাটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলরুমে এ সচেতনামূলক মতবিনময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার ডাবলু ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল বি এসসি। স্বাগত্য বক্তব্য রাখেন পৌর জাতীয় ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক ইমন সরকার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় যুবসংহতি নেতা নুর ইসলাম, রাজিব, ছাত্রসমাজ নেতা আল আমিন ও আওয়ামী লীগ নেতা মানিক বসুনিয়া প্রমুখ।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সাম্প্রতিক কোনো বিষয়। কিন্তু তা সঠিক নয়। এক্ষেত্রে আমরা এক দশক বা তারও আগের সন্ত্রাসী ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারি। জঙ্গিবাদের প্রতি বর্তমান সরকারের শূন্যমাত্রার সহনশীল মনোভাবের কারণে আজ তা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, তছনছ হয়ে গেছে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের কাঠামো। এই সাফল্যের পেছনে সরকারের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সচেতন মহলের মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জঙ্গি সন্ত্রাস রোধে জনসাধারণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জঙ্গিবাদ আর কোনোদিন বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিতে পারবে না বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক কর্মকান্ড পরিলক্ষিত হলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে তারা আহ্বান জানান।

বক্তারা মাদক প্রতিরোধ প্রসঙ্গে বলেন, মাদকাসক্তি বা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার দীর্ঘদিন থেকে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। তবে বাংলাদেশে এর প্রসার ঘটেছে গত প্রায় তিন দশকে। অবৈধ মাদকের ব্যবহার ও ব্যবসা বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগের সাথে জড়িত সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয় বাংলাদেশে মাদক-সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ পর্যন্ত মাদকদ্রব্যের নিরন্তর ঝুঁকিতে রয়েছে। বেআইনি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী এবং এর পৃষ্ঠপোষকরা শুধু মাদক সংক্রান্ত অপরাধই করে না, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত। কাজেই মাদক একটি সামাজিক সমস্যা।

কোন সামাজিক সমস্যা কোন একক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য সমাজের সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য মাদক ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারী, এর ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বোপরি তাদের অভিভাকদেরও সমাধান পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রতি জনগণের সচেতনা বৃদ্ধির জন্য প্রচার প্রচারণা যেমন চালাতে হবে, তেমনি অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পুলিশী অভিযান ও জনপ্রতিরোধের মাধ্যমে অলাভজনক করে তুলতে হবে। পেটের দায়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা তথা অন্য কোন সম্মানজনক বৈধ পেশায় আত্মনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠাও প্রয়োজন। কমিউনিটি পুলিশিংকে আরো সম্প্রসারিত করার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সমাজ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক নির্মূল সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  কোনো  জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষা-সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমকে ধ্বংস করাই যথেষ্ট। বাংলাদেশে একটি কুচক্রী শ্রেণি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং মাদকের  মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে ধ্বংসের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তারা সকল সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানান। তারা আরো বলেন- বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে কেউ কখনো ধ্বংস করতে পারবে না। আলোচনা শেষে এলাকাটিকে মাদকমুক্ত ঘোষণা দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: