সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন হচ্ছে জামালপুরের

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম :
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সাথে জামালপুর জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মির্জা আজম এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে জামালপুর শহরের যানজট নিরসনে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তার ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় জামালপুর শহরে হচ্ছে মেডিকেল কলেজ, শহরের প্রাণকেন্দ্র দয়াময়ী মোড়ে তৈরী হচ্ছে  কালচার ভিলেজ।পৌরসভা ও জেলা স্কুল সংলগ্ন স্থানে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবনের অডিটরিয়াম, কলেজ মোড়ে দোতলা ভবনের আধুনিক সুবিধা সম্মত ডায়াবেটিস হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সমূহ। 
বৃটিশ আমলে আজ থেকে ১৫০ বছর পূর্বে ১৮৬৯ সালে জামালপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও ছোট্ট পৌর শহর জামালপুরের সেই তুলনায় তেমন কোন দৃশ্যমান উন্নতি হয় নি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে দেশ স্বাধীন হলে এই জনপদের মানুষের হৃদয়ে নতুন স্বপ্নের সৃষ্টি হয়। ১৯৭৮ সালে ২৬শে ডিসেম্বর জামালপুর স্বাধীন বাংলাদেশের ২০তম জেলা হিসেবে বাংলাদেশর মানচিত্রে তার অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে অঙ্কিত হয়। জামালপুর বাংলাদেশের ২০তম জেলা প্রতিষ্ঠিত হলে এই অঞ্চলের মানুষ নাগরিক সুবিধা পেতে  আরো বেশি শহরমুখী হতে শুরু করেন। ফলে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে এর কলেবর ও জনসংখ্যা। বর্তমানে জামালপুর জেলায় প্রায় ৩০ লক্ষ জনপদের জেলা। এই ৩০ লক্ষ জনগণের অনেকের পদচারণা ছাড়াও এই শহরে আসেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবীসহ নানা পেশার লোকজন। এর ফলে দিন দিন শহরের নাগরিক সুবিধা ক্রমেই সংকোচিত হয়ে আসছে। এই শহরের  নাগরিকবৃন্দ প্রতিদিন যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন তন্মধ্যে যানজট সমস্যাই প্রধান। এই যানজটে আটকা পড়ে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল-ক্লিনিক, ব্যবসা-বাণিজ্য, ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাক্তার-রোগীর ঘন্টার পর ঘন্টা মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, রোগীর জীবন হচ্ছে বিপন্ন।এই শহরের যানজট নিরসনে প্রতিদিন লাল অথবা সবুজ রঙের অটোরিকশা চলাচলের নিয়ম করা হলোও তাতেও কমছে না যানজট। শহরের নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি করছে এই যানজট। এই যানজটের প্রথম এবং প্রধান কারণ হচ্ছে মূল শহরের ওপর দিয়ে বাস-ট্রাকের গমনাগমন এবং প্রয়োজনের তুলনায় সরু রাস্তা। শহরের গেটপাড় থেকে দয়াময়ী মোড় হয়ে বকুলতলা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে স্থানীয় ও আন্তঃজেলা ট্রাক শহরে প্রবেশ করে কথাকলি মার্কেট, মেডিকেল রোড়ে ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র ঢাকায়পট্টি পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।শহরের ভিতরের এই যানজট নিরসনের জন্য দয়াময়ী মোড় থেকে বকুলতলা হয়ে কম্পপুর মোড় হয়ে যে রাস্তা ইসলামপুর- দেওয়ানগঞ্জ দিকে চলে গেছে ওই রাস্তা সম্প্রসারণ করা পরিকল্পনা করেছে সড়ক বিভাগ।  
এসব নানাবিধ সমস্যার কথা বিবেচনা করে রাস্তা সম্প্রসারণ ও পরিকল্পিত মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ ঘটানো সম্ভব। বর্তমানে জামালপুর শহরের ব্যবসার মূল কেন্দ্রস্থল কথাকলি মার্কেট, তমালতলা, ঢাকায় পট্টি, সকাল বাজার হয়ে গমনাগমন করে।  শহরের নির্মাণাধীন গেটপাড় পয়েন্ট থেকে পূর্ব দিকে ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ  কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ শহরের দয়াময়ী এলাকা থেকে কম্পপুর মোড় পর্যন্ত ০৬ কিঃমিঃ চার লেনে উন্নীত করা হবে। এই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি ড্রেন, ফুটপাত তৈরি করা হবে।সেই সাথে জামালপুর শহরের সাম্প্রতিককালে  পাঁচরাস্তা মোড় অধিক বাণিজ্যিক ব্যস্ততম এলাকায় পরিণত হয়েছে। পাঁচরাস্তা থেকে নয়াপাড়া, গোলাপবাগ হয়ে দেওয়ান পাড়া পর্যন্ত রাস্তাটিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই রাস্তাটিও প্রশস্ত করে চার লেন করে তৈরি করার জন্য স্হানীয় এলাকাবাসী অভিমত ব্যক্ত করেন।  গেটপার থেকে কম্পপুর পর্যন্ত সড়ক উন্নীত করা হলে সড়কের যানজট নিরসন ছাড়াও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অপরদিকে, কম্পপুর-ইসলামপুর- দেওয়ানগঞ্জ পর্যস্ত ৩৯ কিঃ মিঃ ৩৪ ফুট প্রশস্হ সড়ক তৈরি করা হবে,ফলে দুর্ঘটনাও কমে আসবে।সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বক্তব্যে জামালপুরের নানাবিধ উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি জামালপুরের উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: