রংপুর নগরীসহ পুরো জেলাকে লকডাউনের দাবি সুধীমহলের

মো. সাইফুল্লাহ খাঁন, জেলাপ্রতিনিধি, রংপুর : রংপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মহানগরীসহ পুরো জেলাকে রেড জোন ঘোষণাসহ এলাকাভিত্তিক লকডাউনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীমহল ও নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও মহানগরীতে যেসব এলাকায় করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সেসব এলাকা লকডাউন করার দাবি জানিয়েছেন করোনা প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ। তবে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জোন ভিত্তিক জেলা নির্বাচনের সভা ঢাকায় চলমান রয়েছে। আমরা কোন চিঠি বা নির্দেশনা এখনও পাইনি। নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে মহানগরীতে সাধারণ জনগণের চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ্য করেন । রংপুরে করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই যৌথ অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। সম্প্রতি রংপুর নগরীর সিটি বাজার, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, বেতপট্টি, নবাবগঞ্জ বাজার, চাঁদিমা কমপ্লেক্স, সেন্ট্রাল রোড এলাকায় সেনাবাহিনী, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা নেতৃত্ব দেন। নগরী ঘুরে দেখা গেছে, পুরো নগরীর প্রধান সড়কসহ সকল অলিগলিতে লোকসমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। শপিং মল, বিপণি বিতাণ, হোটেল, বাজার ও যানবাহন চলাচলে যেন ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষের জীবন যাত্রা। নেই কোন সামাজিক দূরত্ব। অনেক স্থানে জনগণ মাস্ক ছাড়াই চলাচল করেন। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রমতে, রংপুর জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪শ’৮৭ জন। এর মধ্যে মহানগরীতে রয়েছে প্রায় ৩শ’২০ জন। তবে সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. নুরুন্নবী লাইজু বলেন, আমরা পিসিআর মেশিনে নিয়মিত করোনা নমুনা পরীক্ষা করছি। সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার পৌরসভা, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট করোনা উপসর্গকারীদের নমুনা সংগ্রহ করে আমাদের নির্ধারিত ল্যাবে পাঠালে আমরা তা পরীক্ষা করে দিচ্ছি। তবে পরীক্ষা করার পরিমাণটি আরো বাড়ানো দরকার।

করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও সুজন মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ ফকরুল আনাম বেঞ্জু জানান, রংপুর মহানগরসহ পুরো জেলা করোনার জন্য ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সময় নষ্ট না করে দ্রুত মহানগরীসহ পুরো এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে রোগীর সংখ্যা বিবেচনা করে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন ঘোষণা করা সময়ের দাবি।

ডিফেন্ডারস ফোরাম কেন্দ্রীয় সভাপতি মোশফেকা রাজ্জাক জানান, সরকার যতটা সময় ক্ষেপন করবেন জনগণ ততটা বিপদে পড়বে। সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্ত খুবই সময়োপযোগী। দ্রুত রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলাকে রেড জোনসহ লকডাউনের আওতায় আনা হলে সংক্রমণ অনেকটা কমবে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ( হেডকোয়ার্টার্স ) মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, করোনা প্রতিরোধসহ সংক্রমণ কমাতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে। আগের লকডাউনের চেয়ে এবার পুলিশ কঠোর হবে। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্টসহ জনসমাগম যেন না হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জোন ভিত্তিক লকডাউনের বিষয়ে অবশ্যই পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করবে। নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরতা থাকবে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আমিন আহমেদ খান জানান, আমাদের সকল প্রস্তুতি নেয়াই আছে। এমনিতেই আমাদের কর্মীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। রেড জোন বা এলাকাভিত্তিক লকডাউনের কোন চিঠি বা নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি। পেলে বিধি অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: