রংপুরে হত্যা মামলায় মায়ের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কন্যা

মো. সাইফুল্লাহ খাঁন, জেলাপ্রতিনিধি, রংপুর:
রংপুর সদরের মনোহরপুর গ্রামে আলাল উদ্দিনের  মৃত্যুর ঘটনায় বোন রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে স্ত্রী আজেদা পারভীনসহ ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আজ ৩মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে আলাল উদ্দিনের মেয়ে এইচ এসসি পরীক্ষার্থী আশিকী আক্তার নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আমার বাবা আলাল হোসেন গলায় রশি ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেন। বাবার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে ধারালো বটি দিয়ে গলা থেকে রশি কেটে নিজ হাতে লাশটি নামাই। ওই সময় বাবার লাশ দেখে আমার মা আজেদা পারভীন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ এসে বাবার লাশ নিয়ে যায়।

বাবা- মা’সহ  পরিবারের সবাই খুব সুখে -শান্তিতেই ছিলাম। কখনও আমার মায়ের সাথে বাবার কোন বিষয়ে ঝগড়া-ঝাটি বা কথা কাটকাটি ও মনোমালিন্যও হতে দেখিনি। বাবা-মা পরামর্শ করেই সংসারের উন্নতির লক্ষ্যে সকল কাজ করার পাশাপাশি আমাদের দুই বোনের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতেন।

আশিকী আক্তার  আরও জানায়, আমার ফুফু রোকেয়া বেগম বড় আব্বু ও চাচাদের সাথে পরামর্শ করে আমি ও ছোট বোন ঐশি মনির ভবিষ্যত নষ্ট করাসহ সকল সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বাবার মৃত্যুর দিনেই আমার মা, নানী-মামা-খালুকে হত্যা মামলার আসামি বানিয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা অনুযায়ী গত কয়েকদিন আগে তারা আমার মাসহ সকলকে পুলিশে দেয়। অদ্যাবধি  আমার ফুফু চাচা কিংবা  বাবার পরিবারের কেহই কখনও আমরা দুই বোনের খোঁজ খবর নিতে আসেনি। বাবার মৃত্যুর আগেও তারা কখনই আমাদের খোঁজ রাখতো না। আমি ও আমার ছোট বোন তাদের ভয়ে বর্তমানে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। কেননা বাবার আত্মহত্যাকে পুঁজি করে মায়ের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে নিয়েছে। তাই যেকোনো মুহুর্তে আমাদের বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারেন।

বাবার মৃত্যুতে আমার মা, নানী, মামা, খালু কেউ জড়িত ছিলনা। আজ ফুফু-চাচারা আমার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু কেড়ে নিয়ে সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে জানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করে বন্দিদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: