রংপুরে ইটভাটার নির্গত গ্যাসের কার্বনে ৪০একর ফলন্ত কৃষিজমি নষ্ট !

মো. সাইফুল্লাহ খাঁন, জেলাপ্রতিনিধি, রংপুর :
রংপুর মহানগরীর ১১নং ওয়ার্ডের রাজেন্দ্রপুর গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে উঠা জনতা ব্রিকস নামক একটি ইটভাটার নির্গত গ্যাসের শিশায় ৪০ একর কৃষিজমির ফসল উৎপাদন নেমেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। এনিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছে সেখানকার কৃষকগণ !ভুক্তভোগীরা জানান, উক্ত ভাটার মালিকগণ কৃষকদের এই ক্ষতিপূরণে যথাযথ আশ্বাস দিলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন এখন প্রতারণার জাল। যৌথভাবে এমন অভিযোগ করেছে ৬৩ জন কৃষক ,রংপুর সিটি কর্পোরেশন -১০-১১-১২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের নিকট। এনিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে সেই এলাকায় !

সরেজমিনে গিয়ে দেখাস যায়, মহানগরীর ১১নং ওয়ার্ডের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ভিতরে “জনতা ব্রিকস” নামক একটি ফিক্সচিমনি ভাটা গত ১৩বছর যাবত শহিদুল নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল মিয়া ও রতন মিয়া নামক ব্যবসায়ী মিলে যৌথভাবে আইনি লোকের সঙ্গে আঁতাত করে ইট উৎপাদন করে আসছে ,যা পরিবেশ বান্ধবহীন ও বেআইনি !এই ভাটায় গতদিনগুলোতে পুৃড়েছে শত শত গাছ ,আগুনের উত্তাপে আর নির্গত গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত কার্বন শিশায় জ্বলে গেছে সেখানকার আশ পাশের প্রায় ৪০একর ফলন্ত কৃষিজমি !

ইট তৈরির জন্য মাটির উপরিভাগ থেকে মাটি সংগ্রহ করায় উর্বরতা হারিয়ে নষ্ট হয়েছে কৃষিজমির আবাদি ফসল ,একটু অদূরে বসতবাড়ি থাকায় -ক্ষতির বাহিরে নেই সেখানকার জনস্বাস্থ্য !

ভুক্তভোগী কৃষক বাবলু চন্দ্র রায় ,অরুন মেম্বার ও ,কার্তিক চন্দ্র রায় গং জানান, গত কয়েকদিন আগে উক্ত ভাটায় যান্ত্রিক সমস্যা হওয়ার কারণে নির্গত গ্যাসে বাতাস ভারী হয়ে তাদের ক্ষেতে আঘাত হানলে রোপনকৃত অধিকাংশ ফসল পুড়ে যায়। এনিয়ে উক্ত ভাটার মালিকপক্ষের মকবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান আমরা এই ক্ষতির দায় স্বীকার করছি এবং আমরা ক্ষতি হওয়া কৃষকদের সঙ্গে বসে সমঝোতার চেষ্টা করবো বলে প্রতিবেদক কে জানান। এদিকে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত ভাটা স্থাপনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ২০১৩ সনের ৫৯ নং আইন করে সরকার এবং বিগত ২৪ জুলাই ২০১৪ ইং তারিখ সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা কার্যকর করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে আইনে বলা হয় সিটিকর্পোরেশন এরিয়ার ভিতরে কোন ধরনের ইটভাটা স্থাপন করা একেবারেই অবৈধ তা জানা সত্ত্বেও কীভাবে সিটিকর্পোরেশন এরিয়ার ভিতরে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এই ভাটা পরিচালনা করে আসছে এনিয়ে রসিক মেয়রের সঙ্গে মূঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিত আমরা কাউকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করি না। আর ওই ভাটার কারণে যদি সেই এলাকার ফসলি জমি নষ্ট হয় তাহলে এলাকাবাসী গিয়ে সেই ভাটা বন্ধ করে দেক ! সিটিকর্পোরেশন এরিয়ার ভিতরে আইন অনুসারে ভাটা স্থাপন করা একেবারেই নিষিদ্ধ জানা সত্ত্বেও কীভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর জনতা ব্রিকস নামক প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দিলেন এনিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি মেজবাহ এর সঙ্গে কথা হলে তিনি নিশ্চিত করেন, সিটিকর্পোরেশন এরিয়ায় তিনি কোন ভাটার প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেন নি। অবৈধ ইট ভাটার বিষয়ে জোরালো কোন পদক্ষেপ নেই জেলা প্রশাসনের।

রংপুর জেলার নিয়ন্ত্রণে মোট ২৮৩ টি ইট প্রস্তুত কারক ভাটা রয়েছে যার মধ্যে মাত্র ৫৪টি ভাটার ছাড় পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।বাকি ২২৯টি ইট ভাটায় অবৈধ জেলা প্রশাসকের লাইসেন্সবিহীন পরিচালিত ও সরকারের নিষিদ্ধকরণ পরিবেশ বান্ধবহীন “ফিক্সড ভাটা”সমূহ বন্ধ করার বিষয়সহ অনেক প্রশ্ন নিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সহিত দেখছি শীঘ্রই এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: