মুজিববর্ষে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য দূর করা হউক

সম্পাদকীয় :

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করেছে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও এমপওিভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুযোগ- সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে পাহাড়সম বৈষম্যের অবসান ঘটেনি। যদিও সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা সমান ,একই সিলেবাস ও কারিকুলাম অনুসরণ, একই বোর্ডের অধীনে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ণের ক্ষেত্রেও কোনো পার্থক্য নেই। সেই হিসেবে একই কাজের জন্য একই মানের দুইজন শ্রমিকের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকা কাম্য নয়। মুজিববর্ষে এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য দূর করা হবে এমন আশায় বুক বেঁধে অধীর আগ্রহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ঘোষণার অপেক্ষায় দিন গুনছেন শিক্ষকসমাজ। দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি করে আসছেন। আসলে তাদের এ দাবি কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা জরুরি।একজন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫শ’ টাকা চিকিৎসাভাতা ও মূল বেতনের ২৫% উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন।অপরদিকে, একজন সরকারি শিক্ষক মূল বেতনের ৪০% থেকে ৫০% বাড়ি ভাড়া, মূল বেতনের সমপরিমান উৎসব ভাতা ১ হাজার ৫শ’ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন।এ যেন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকের মধ্যে পাহাড়সম বৈষম্য। বর্তমানে ১ হাজার টাকায় কিচেন রুমে থাকার সুযোগও নেই।২৫% উৎসব ভাতায় ২৫% উৎসব পালনই সম্ভব এর বেশি আশা করা যায় না।৫শ’ টাকা চিকিৎসা ভাতাও নগণ্য।এতে দেখা যায়, একজন বেসরকারি শিক্ষক সামাজকিতা রক্ষা করতেও ব্যর্থ হন।পরিবার -পরিজনের ন্যূনতম চাহিদাটুকুও পূরণ করতে না পারায় তাকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।অথচ বেসরকারি শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের সমযোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে সমপরিমান কাজ করলেও আর্থিকভাবে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এটা চলতে পারে না। তাছাড়া দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ শিক্ষকই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত । এসব প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। আর বাকি ৫ ভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও আসন থাকে সীমিত। সে কারণে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে অতি মেধাবী স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়। অবশিষ্ট স্বল্পমেধাসম্পন্ন ও প্রায় মেধাশূন্য শিক্ষার্থীদের ঠাঁই হয় দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মহান দায়িত্বটুকু গ্রহণ করেন দেশের অবহেলিত বেসরকারি শিক্ষক সমাজ।বেসরকারি শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবন যাত্রার মানোন্নয়নে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: