মিরপুরে থানায় ভেতর রহস্যজনক বিস্ফোরণ, পুলিশসহ আহত ৫

মো.পারভেজ আলম, জেলা প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের চার সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকালে থানার ভেতর এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বিস্ফোরণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিরা হলেন- পল্লবী থানার ইন্সপেক্টর ইমরানুল ইসলাম, সাব-ইন্সপেক্টর সজীব খান ও রুমি বেভরেজ হায়দায়, শিক্ষানবিশ সাব-ইন্সপেক্টর অঙ্কুর কুমার ও বেসামরিক ব্যক্তি রিয়াজুল ইসলাম। আঘাত প্রাপ্তদের মধ্যে ইমরানুল ইসলামের বা পায়ের মাংস থেঁতলে গেছে। বোমা বিস্ফোরণে প্রচণ্ড শব্দের কারণে কানে শুনতে পাচ্ছেন না সজীব খান। অঙ্কুশ কুমার বাঁ চোখে আঘাত পেয়েছেন। রুমি বেভরেজ হায়দায়ের শরীর ঝলসে গেছে। রিয়াজুল ইসলামের বা হাতের কবজি জখম হয়েছে।

পল্লবী থানার সাব-ইন্সপেক্টর নুর-ই-আলম এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, রুমি ও রিয়াজুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইমরানুল ও সজীব ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। অঙ্কুশ কুমার জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জন আলাউদ্দিন জানান, রুমির বাঁ হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। রিয়াজুল ইসলামের হাতে আঘাত আছে। তাঁর শরীরও ঝলসে গেছে। ইমরানুলের পায়ে স্প্লিন্টারের আঘাত ও সজীবের কানে শব্দের আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া অঙ্কুশ কুমারের চোখে আঘাত লেগেছে। তাঁকে জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। তবে আহত সবাই এই মুহুর্তে আশঙ্কামুক্ত।

ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানার পুলিশ পল্লবী-কালশী কবরস্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে তিন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। তাঁদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি গুলি ও একটি ডিজিটাল ওয়েট মেশিনের মতো ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। সেগুলো থানার ডিউটি অফিসারের রুমে রাখা হয়। আজ সকালে ডিজিটাল ওয়েট মেশিনের মতো ডিভাইসটি বিস্ফোরিত হয়। বোমা বিস্ফোরণে থানার দ্বিতীয় তলার একটি ঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। ডিজিটাল ডিভাইসটির মধ্যে দুইটি বোমা রাখা ছিল।

ওয়ালিদ হোসেন জানান, গ্রেফতার ওই তিন ব্যক্তি হলেন, শহীদুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন (২৬) ও রফিকুল ইসলাম। তিন ব্যক্তিকে দুপুরে ডিএমপি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির একটি সূত্রের ভাষ্য, গ্রেপ্তার তিনজন শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত বাহিনীর সহযোগী। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, স্থানীয় এক রাজনীতিককে হত্যার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাদিয়া ফারজানা জানান, বিস্ফোরণের ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে যান।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, এরা জঙ্গি না এরা সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর পল্লবী থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কয়েক ঘণ্টা পর থানায় জিডি বা মামলা নেওয়াসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান পল্লবী থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক আকলিমা খানম।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে পল্লবী থানার সাব-ইন্সপেক্টর নুর-ই-আলম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, আসামীদেরকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: