প্রধানমন্ত্রীও সূর্যের মতো আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন সারা দেশের মানুষের মাঝে —তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান

 আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম :
তথ্য প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি বলেছেন, আমরা আয়কর দিই দেশের উন্নয়নের জন্য। এই সহজ-সরল কথাটা না বোঝার কি কোনো কারণ আছে? কেউ আয়কর ফাঁকি দেবেন না।দেশের উন্নয়নই নিজের উন্নয়ন। সরকারকে ফাঁকি দিয়ে নিজের উন্নয়ন হয় না। আয়কর ফাঁকি দেওয়া মানে নিজের পায়েই নিজে কুড়াল মারা। এটা যতক্ষণ না বুঝতে পারবো ততক্ষণ কোনো সমস্যার উত্তরণ করতে পারবো না।১১ নভেম্বর শনিবার জামালপুর আয়কর অফিসে আয়োজিত চার দিনব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। এটাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জন করেছি। কেউ চোখ খুলে দেখুক আর না দেখুক সূর্য আলো ছড়াবেই।বাইরে আলো থাকলেই বোঝা যায় সূর্য উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীও সূর্যের মতো আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন সারা দেশের মানুষের মাঝে। দেশের মাত্র সাড়ে ১৬ লাখ মানুষ কর দেন। তাদের করের টাকায় দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা আমরা কেউ রাখি না। কিন্তু এই প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র প্রধান শেখ হাসিনা ঠিকই পারছেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবো। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদেরকে উন্নত বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই শেখ হাসিনা রাতদিন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই অগ্রযাত্রাকে কেউই দাবায়ে রাখতে পারবে না।
প্রতিমন্ত্রী ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত একটি আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সক্ষম নাগরিকদের করের আওতায় এসে দেশের উন্নয়নের চাকাকে সচল রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করতে সক্ষম ব্যক্তিরাই করের আওতাধীন হবেন। আর অন্যান্য যে বিশেষ বিধিগুলো আছে বীর মুক্তিযোদ্ধা, অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এমন শ্রেণির ব্যক্তিরা বিশেষ কোঠায় করের আওতাধীন। তাদের ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ ছাড় রাখছে।
মেলার প্রথম দিনেই আয়কর অফিস প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বুথে আয়কর রিটার্ন দালিখ করা এবং তাৎক্ষণিক আয়কর দেওয়া ও তথ্য জানতে আয়করদাতা সরকারি- বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ ভিড় করেন। চার দিনব্যাপী এ আয়কর মেলা চলবে ১৯ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত।
জামালপুর আয়কর অফিসের সহকারী কমিশনার প্রীতিশ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আয়কর মেলার উদ্বোধনী আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাছির উদ্দিন, জামালপুরের সর্বোচ্চ করদাতা ব্যব্যসায়ী রঞ্জন কুমার সিংহ, দি জামালপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রেজনু, আয়কর বার অ্যাসোসিয়েশন জেলা শাখার সভাপতি আইনজীবী মো. আতাউর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: