নীলফামারীতে মাত্র ৪০ হাজার টাকার জন্য গৃহবধূ শারমিন হত্যা!


মহিনুল ইসলাম সুজন,ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী॥স্বামীর দাবি ছিল অভিমান করে তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার শারমিন (১৯)বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে।স্ত্রীকে বাঁচাতে নিয়েও এসেছিল নীলফামারী সদর জেনারেল হাসপাতালে তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শারমিনকে জরুরিভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে ছুটে আসেন শারমিনের বাবা মা ও আত্মীয়-স্বজনেরা।কিন্তু শারমিনকে নিয়ে রংপুর যাবার পথে নীলফামারী উত্তরা ইপিজেড এলাকা পার হতে না হতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শারমিন। এ্যাম্বুলেন্সুটি পুনরায় সদর জেনারেল হাসপাতালের দিকে ফেরার পথে এ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে পালিয়ে যায় স্বামী মোমিনুল ইসলাম।জামাই পালিয়ে যাওয়ায় রহস্য দানা বাঁধে শারমিনের বাবার মনে। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে মেয়ের লাশ ফিরে এনে তিনি নীলফামারী থানায় বিষয়টি অবগত করেন। পুলিশ ছুটে এসে সব কিছু জানার পর পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় থানা পুলিশ মাঠে নেমে পড়েন তদন্তে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মাথায় পুলিশের জালে আটক হন শারমিনের স্বামী দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার সীমানায়। সেই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয় শারমিনের শ্বশুর লাল মামুদকেও। জিজ্ঞাসাবাদে যৌতুকের বকেয়া ৪০ হাজার টাকার জন্য বাবা- ছেলে মিলে শারমিনের উপর প্রচন্ডভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানোর কথা স্বীকার করেন তারা। শারমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসে কাহিনী সাজায় স্বামীর উপর অভিমান করে শারমিন বিষপান করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাবা ও ছেলে সব কিছু স্বীকার করেন। এরপর পুলিশ তাদের বাড়ি হতে উদ্ধার করে শারমিনকে নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত খাটের রোলার, মাথায় আঘাত করা একটি স্টীলের বড় মগ। এভাবে বেরিয়ে আসে শারমিন বিষপানে নয় যৌতুকের বলি হবার কাহিনী।শুক্রবার(১২ জুন)দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম-পিপিএম) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, গত বুধবার(১০ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাবা ও ছেলে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।
এ ঘটনায় শারমিনের বাবা হাবিল শেখ বাদী হয়ে ১০ জুন নীলফামারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এদিন জেলার মর্গে শারমিনের লাশের ময়না তদন্ত করা হয়। লাশের সুরতহাল রিপোর্টে শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য দাগ পাওয়া যায়।
পুলিশ সুপার জানান,দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে শারমিনের বাবার বাড়ি। এক বছর আগে নীলফামারী সদরের খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের সাবুল্লিপাড়া গ্রামে মোমিনুলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সময় যৌতুক ঠিক হয়েছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। শারমিনের বাবা নগদ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করলেও বাকি ৪০ হাজার টাকা প্রদান করতে পারেননি। দীর্ঘ দিনেও ৪০ হাজার টাকা না পাওয়ায় স্বামী ও শ্বশুর শারমিনের উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। এই নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় ঘটনার দিন ৯ জুন দুপুর ১২টার দিকে। সে সময় শারমিনের হাত- পা বেঁধে ছেলে ও বাবা শারীরিক নির্যাতন চালায় শারমিনের শরীরে।তিনি জানান,মামলার তদন্ত ও স্বীকারোক্তি সব পুলিশের কাছে রয়েছে। ময়না তদন্তের রিপের্ট হাতে পেলেই আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে প্রদান করা হবে।সংবাদ সম্মেলনে এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল, নীলফামারী সদর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মাহমুদ-উন নবী ও ডিআইও ওয়ান লাইছুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: