নীলফামারীতে আন্তর্জাতিক চারুকলা উৎসবের উদ্বোধন

নীলফামারী প্রতিনিধি॥ নীলফামারীর বিন্ন্যাদিঘিতে বৃহস্পতিবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘন্টা বাজিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক চারুকলা উৎসবের উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু।
উদ্বোধনী ওই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে, এম খালিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদসদস্য রাবেয়া আলিম, জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, নীলফামারী পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে,এম খালিদ বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম শিল্প চর্চায় যেভাবে এগিয়ে আছে এই উৎসবের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গও এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি এখানে এসে জানতে পারলাম আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে ৩০ হাজার খুদে কবি এ জেলায় রয়েছে। আমি মনে করি, তিনি চেষ্টা করলে ৫০ হাজার চিত্র শিল্পী এ জেলায় তৈরি হবে।
উদ্বোধক অধ্যাপক রফিকুন নবী বলেন, ছবি এঁকেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধে শিল্পী কামরুল হাসান ছবি এঁকে প্রতিবাদ করেছিলেন। শিল্পাচার্য্য জয়নুল আবেদীন ব্রিটিশ শাসনামলে দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কার্টুন করে প্রতিবাদ করেছিলেন। যা বিশ্বের মধ্যে আলোলড় সৃষ্টি হয়েছিল।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শিশুরা উৎসবে এসে গুণী শিশুদের সাথে যুক্ত হয়ে আনন্দভরে যেভাবে ছবি আঁকছে তারা ভবিষ্যতে যে শিল্পী জয়নুল আবেদীন বা রফিকুন্নবী হবেনা সেটি বলা অসম্ভব।

সূত্র মতে, চারুকলা উৎসবটির আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস এবং কিউরেটর সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ টুটুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গুণী শিল্পী, চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিমনা কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে উৎসবটি। সেটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে স্থানীয় সংগঠন ভিশন-২০২১ এবং ঢাকার আর্ট বাংলা।শিল্পকলা চর্চার মাধ্যমে রুচিশীল ও সংস্কৃতিমনস্ক প্রজম্ম গড়ে তোলা এবং কয়েক প্রজম্মের শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসবের আয়োজন। বাংলাদেশের বরেণ্য ও তরুণ শিল্পীবৃন্দ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, রুমানিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, জার্মানি ও ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ১২ জন স্বনামধন্য শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের সান্নিধ্যে নীলফামারী জেলা ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থী টানা চার দিন শিল্পকর্ম নির্মাণের সুযোগ পাবে। কারুশিল্প প্রদর্শিত হচ্ছে ২০ স্টলে। উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন ১৬০ জন শিল্পী। এর মধ্যে ১০০ জন তরুণ। উৎসবে আঁকা চিত্রকর্মগুলো নিয়ে নীলসাগরে প্রদর্শণী অনুষ্ঠিত হবে ২৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল দ্বিতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারিতে।
সেচ্চাসেবী সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী ও উৎসব আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ওয়াদুদ রহমান জানান, উৎসবটি বাস্তবায়নে সংগঠনের ১৫০ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: