তথ্য প্রতি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মেয়রের মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

তৌকির আহাম্মেদ হাসু সরিষাবাড়ী(জামালপুর)থেকেঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লাইভে এসে তথ্য প্রতি মন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করার প্রতিবাদে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আজ বুহস্পতিবার(৬ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহ -সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ লতিফ। বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তেজগাঁও বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ।
এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান শাহজাদা,মনির উদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান এলিন,খোরশেদ আলম ভিপি,জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম মানিক সহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক বহিষ্কৃত পৌর সভার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি,অনিয়ম,লুটপাট, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সরিষাবাড়ী পৌর সভার কাউন্সিলর কর্তৃক অনান্থা প্রাপ্ত মেয়র রুকনুজ্জামান (রুকন) গত ৪ আগস্ট রাত ৮.২৭ মিনিটে তার আইডি থেকে লাইভে এসে তথ্য প্রতি মন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি’র বিরুদ্ধে মিথ্যা,বানোয়াট,ভিত্তিহীন,মনগড়া,কাল্পনিক ও কু-রুচিপূর্ণ অশ্লীল ধৃষ্ঠতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। মেয়রের এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ,নিন্দা এবং দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে দলীয় নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলনসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। সেই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে মেয়রের দুর্নীতি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।
মেয়র রুকনুজ্জামান রুকনের দাদা মরহুম আঃ গফুর মাস্টার ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মরহুম ব্যারিস্টার আঃ ছালাম তালুকদারের পিতা মরহুম রিয়াজ উদ্দিন তালুকদারের সাথে শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে সরিষাবাড়ী থানার ভাটারা ইউনিয়নের অন্তর্গত পারপাড়া গ্রামে লুটপাট, অগ্নি সংযোগ এবং মানুষ হত্যার মত জঘন্যতম কাজে নেতৃত্ব প্রদান করেন।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে।সেই নির্বাচনে জামালপুরের কৃতী সন্তান জেলা আওয়ামীলীগ এর সাবেক সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধকালিন সরকার কর্তৃক অস্থায়ী বিচারপতির দায়িত্ব পালনকারী প্রয়াত অ্যাড. মতিয়র রহমান তালুকদারের সুযোগ্য পুত্র গরিবের ডাক্তার খ্যাত ডা. মুরাদ হাসান কে ১৪১ জামালপুর- ৪ আসনের নৌকার প্রার্থী হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রেরণ করেন। সরিষাবাড়ীর জনগণ মরহুম সালাম তালুকদারের ভাতিজা জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম কে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ডা. মুরাদ হাসান কে নির্বাচিত করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডা. মুরাদ হাসান এমপি হিসেবে সফলতার সাথে তার দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে সরিষাবাড়ীতে তালুকদারদের রাজত্বে হানাদেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের দম্ভ চূর্ণ করে দেন, তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড স্তব্ধ করে দেন। এমতাবস্থায় শামীম তালুকদার সরাসরি ডা. মুরাদ হাসানের এর সাথে পেরে না ওঠে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে কৌশলে রুকনুজ্জামান রুকনকে আওয়ামীলীগে প্রবেশে পথ তৈরি করে দেয়। ২০১৫ সালে স্থানীয় আওয়ামীলীগ তাকে গ্রহণ করেন। তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করেই সুকৌশলে মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসের মাথায় আওয়ামীলীগের পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন এবং পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: