ডোমারে রাজাকার পুত্রের হাতে পতাকা উত্তোলন করায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান বর্জন

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি>>
নীলফামারীর ডোমারে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাজাকার পুত্রের হাতে বিজয় দিবসে পতাকা উত্তোলন করায় মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন দেন-দরবার করেও বর্জনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে ফেরাতে পারেন নি। পরে তারা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বিজয় দিবস পালন করেন। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে বিজয় দিবসের জাতীয় পতাকা উত্তোলন কালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ অংশ নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে রাজাকারের নাতী ও পুত্রের অভিযোগ তুলে মুক্তিযোদ্ধারা ওই অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে যান। এ সময় তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজাকারের নাতী ও পুত্রের নানা রকম শ্লোগান তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরননবী বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই পতাকা কোন রাজাকার পুত্রের হাতে তা উত্তোলনের জন্য নয়। তার হাতে পতাকা উত্তোলন স্বাধীনতাকে অবমাননাকর মনে করে আমরা তার প্রতিবাদে অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

তিনি আরো বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে যে, ১০ হাজার৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে, তাদের মধ্যে ১০২৫ নং তার বাবা শওকত আলী। ১০৬১ তার দাদা চাটি মামুদ ও ১০২৪ তার নানা ছমিরুদ্দিনের নাম তালিকায় রয়েছে। এলাকার রাজাকার সামছুল হক টোগরার ঘনিষ্ঠ সহচর থেকে তোফায়েলের বাবা যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর-বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে মুক্তিকামী মানুষের সম্পদ লুটপাটে সহযোগিতা করেছিলেন।
উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল বলেন, তোফায়েল আহমেদ ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু হত্যার আত্মস্বীকৃত ফ্রিডম পার্টির প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সম্বয়নকারী ছিলেন। দিন বদলের পালায় তার অপকর্ম থেকে পরিত্রাণ পেতে সুযোগ বুঝে আ’লীগে অনুপ্রবেশ করেন। অনুপ্রবেশের পর প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটি দখল করে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকার ইমেজের ওপর ভর করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তার মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী চেহারা পরিস্কার হয়ে উঠে। সেই রাজাকারের পুত্র ও ফ্রিডম পার্টির নেতা আজ বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদকে পুঁজি করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে এটি মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের কেউ মেনে নিতে পারেনি। একারণে সরকারি ওই অনুষ্ঠান বর্জন করে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বিজয় দিবস পালন করেছি।
ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল জব্বার অভিযোগ করে বলেন, তোফায়েল একজন রাজাকার পুত্র, চয়ন হত্যা মামলার সে একজন আসামি। ফ্রিডমপাটির সাবেক নেতা তোফায়েলকে আ’লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনজিলুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১৯৭১ সালে আমার চাচা সাবেক হুইপ আব্দুর রউফ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন তার বাড়ীতে পাক সেনারা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার সময় পাকসেনাদের সহযোগিতা করেছলেন তোফায়েলের বাবা শওকত আলী, যা আমি প্রত্যক্ষ দেখেছি।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অংশটুকু বর্জন করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের মুঠো ফোন- ০১৭৪০-৬৪৬২৮৮ নম্বরে একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: