ডিমলায় সরকারি কাজে বাধা: ৪ পুলিশ সদস্য আহত,আটক ২

মহিনুল ইসলাম সুজন,ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী॥করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হোটেল খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় থানা পুলিশের এক এসআই ও তিন কনস্টেবলসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।এ ঘটনায় রাতে ওই বাজার থেকে আলম(৪৫)নামের এক ওয়ার্কশপ(লেথ)ব্যবসায়ী ও শুক্রবার(৫জুন)সকালে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই এলাকা থেকে জড়িত মূল ব্যক্তি হোটেল মালিককে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে ওই এলাকার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের দাবি এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হোক এটা সকলের কাম্য তবে নিরপরাধ কোনো মানুষের নামে মামলা ও তারা যেন কোনো রকম হয়রানির শিকার না হন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার(৪জুন)বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার মনিটরিংয়ের ধারাবাহিকতায় উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টুনিরহাট বাজারে থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়শ্রী রানী রায়।এ সময়ে ওই বাজারের মিম হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টটি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকেল ৪টার পরও খোলা দেখতে পেয়ে তিনি(ইউএনও)তা বন্ধ করতে বলে সেখান থেকে চলে যান।কিন্তু দীর্ঘ প্রায় এক ঘন্টা পরও সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুনরায় ফিরে সেই হোটেলটি খোলা দেখে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অপরাধে একই ইউনিয়নের দোহলপাড়া গ্রামের মৃত,মিনুর ছেলে ও হোটেলটির মালিক মিলন আহম্মেদ(৩৮)ওরফে বিটিশের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। অন্যথায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করার কথা বলা হয়।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানটির মালিক দোকানে থাকা মোগলাই ও পুড়ি কাটা একটি ছোরা হাতে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের ওপর চড়াও হয়ে বাধা প্রদান করেন।এ সময় উপস্থিত জাহাঙ্গীর নামের এক পুলিশ কনস্টেবল তাকে শান্ত হতে বললে হোটেল মালিক বিটিশ ছোরা নিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করেন।পরে এসআই বাকিনুর ইসলাম ওই পুলিশ কনস্টেবলকে বাঁচাতে গেলে দোকানের বারান্দার একটি বাঁশের খুঁটি ভেঙ্গে তার কান ছুয়ে ঘাড়ে পড়লে তার কান ফেটে রক্তক্ষরণ হয় ও তিনি ঘারে প্রচন্ড আঘাত পায়।
একই সময় হোটেলের মালিক বিটিশ ও তার ছোট ভাই আলম(২২)সহ অপর দুই পুলিশ কনস্টেবল আউয়াল ও সফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকেও লাঞ্ছিত করে আহত করেন।আহত এসআই বাকিনুর ইসলামের কানে চারটি সেলাই ও তিন পুলিশ কনস্টেবল সহ চার পুলিশ সদস্য ডিমলা উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।রাতেই পুলিশ ওই বাজারে অভিযান চালিয়ে এক ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী ও শুক্রবার(৫জুন)সকালে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন থেকে উক্ত হোটেল মালিককে আটক করতে সক্ষম হন।তবে অভিযুক্তদের পরিবার ও বেশকিছু এলাকাবাসীর দাবি ঘটনার সময় হোটেল মালিককে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক মৌখিকভাবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন,এ ঘটনায় থানা পুলিশের এক এসআই ও তিন কনস্টেবল আহত হয়েছে। রাতে ঘটনায় জড়িত একজন ও শুক্রবার সকালে ঘটনার মূল অপরাধীসহ দুইজনকে আমরা আটক করতে সক্ষম হই।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়শ্রী রানী রায় বলেন,ওই হোটেল মালিককে বিকেলে হোটেল বন্ধ করার কথা বলা হলেও তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হোটেল খোলা রাখার খবরে পুনরায় সেখানে গিয়ে তার দোকান এখনও খোলা কেনো তা জানতে চেয়ে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করতে চাইলে তিনি পুলিশসহ আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছোরা হাতে নিয়ে সরকারি বাধা প্রদানসহ পুলিশকে ধাওয়া করেন।এ সময়ে ওই পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতে গিয়ে দোকানের বারান্দার একটি বাঁশ খুলে পড়ে থানা পুলিশের এসআই বাকিনুরের কান ফেটে রক্তক্ষরণ হয়ে ও তিনি ঘাড়ে আঘাত পেয়ে আহত হন।আমি ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা প্রদানের কারণে থানায় একটি জিডি(সাধারণ ডায়েরী) করেছি।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রসেস করার আগেই ওই হোটেল মালিক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠায় তা করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: