জামালপুরে সাংবাদিকের দু’পা ভেঙ্গে দেওয়ার মূলহোতা সন্ত্রাসী কসাই রুনুখানসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

এএসএম সা’-আদাত উল করীম: দৈনিক বাংলা বাজার ও দৈনিক পল্লীকন্ঠ প্রতিদিনের সাংবাদিক শেলু আকন্দকে নৃশংসভাবে মেরে দু পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত পৌর কাউন্সিলর রুনুখানসহ সহযোগীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। ২১ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে শহরের দয়াময়ী মোড়ে জামালপুর প্রেসক্লাবের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি ও চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিক হাফিজ রায়হান সাদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নূরুল হক জঙ্গী, দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক সুশান্ত কুমার দেব কানু, বিটিভির সাংবাদিক মোস্তফা বাবুল, বাংলার চিঠির সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মিন্টু, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোস্তফা মনজু, সময় টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ জার্নালের সাংবাদিক শওকত জামান, আলোচিত জামালপুরের নির্বাহী সম্পাদক কবি সাযযাদ আনসারী, কবি জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, ইসলামপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খাদেমুল ইসলাম বাবুল, সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম রুকন, শুভ সময় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আলহাজ্ব আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম , নিপুণ জাকারিয়া, শিলা আহমেদ, মাসুদুর রহমান চৌধুরী ও শেলু আকন্দের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন আকন্দ। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এটিএন বাংলার সাংবাদিক লুৎফর রহামনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ৬ আসামিসহ সহযোগীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এর আগে ২৮ মে দুপুরে পৌর কাউন্সিলর রুনু খান ও তার ছেলে জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রাকিব খান কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোস্তফা মনজুকে মারধর করেছিলেন। মারধরের ঘটনায় হওয়া মামলায় প্রধান সাক্ষী ছিলেন সাংবাদিক শেলু আকন্দ। এরই জের ধরে ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টায় দেওয়ানপাড়া এলাকায় শহররক্ষা বাঁধের বাইপাস সড়কে পৌর কাউন্সিলর রুনু খানের নির্দেশে শেলু আকন্দকে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে দু’ পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন রাকিব খান ও সহযোগীরা। এ ঘটনায় শেলু আকন্দের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে অজ্ঞাতনামাসহ ৬জনকে আসামি করে জামালপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাকিব খানকে ওইদিন রাতে গ্রেফতার করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন বাকি আসামিরা। বক্তারা আরও বলেন, পৌর কাউন্সিলর রুনু খান পেশায় ছিলেন একজন কসাই। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য কিশোরগঞ্জের পৈত্রিক নিবাস থেকে তাদের বিতাড়িত করেছিলেন এলাকাবাসী। জামালপুরে এসে তিনি কীভাবে জেলা আওয়ামীলীগে জায়গা করে নিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তা অনুসন্ধান করলেই প্রকৃত চিত্র বের হয়ে আসবে। রুনু খানকে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার ও রাকিব খানকে জেলা ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। এছাড়া রুনু খান গংদের হাতে জামালপুরের বিভিন্ন জমি দখলের ঘটনা দুদককে তদন্তের দাবি জানানো হয়। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: