ছিন্নমুল মানুষের পাশে দাঁড়ালেন নীলফামারী সদর যুবলীগ

নীলফামারী প্রতিনিধি॥ বিশ্ব জুড়ে করোনা মোকাবিলায় ঘরবন্দি ও কর্মহীন মানুষকে সরকারের পাশাপাশি অনেকেই স্থানীয়ভাবে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্ত ছিন্নমূল মানুষের ক’জনেই বা খবর রাখছেন। যাদের ঠিকানা রেলওয়ে স্টেশন কিংবা বাস র্টামিনাল বা হাসপাতালের বারান্দায়। বলতে গেলে পথেই তাদের ঠিকানা। এসব মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে দীর্ঘ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রনবানন্দ রায় রাখাল।দ্বিতীয়বারের মত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) গভীর রাতে জেলা শহরের চৌরঙ্গীর মোড়, হাসপাতাল চত্বর, আনন্দ বাবুর পুল, পুরাতন স্টেশন ও কলেজ স্টেশনে ৫০টি খাবারের প্যাকেট ছিন্নমূল মানুষের হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি। গত দুইদিনে ১০০ জন ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন তিনি। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে খাবারের প্যাকেট নিয়ে সেই সব মানুষের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন তিনি।করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই সামান্য খাদ্য সহায়তা চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।
নীলফামারী সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রনবানন্দ রায় রাখাল বলেন,এ কাজে পারিবারিকভাবে সহযোগিতা ও সাহস যুগিয়েছেন স্ত্রী চন্দনা রানী রায় ও ছোট ভাই শ্যামল। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষই সরকারি কিংবা স্থানীয়ভাবে খাদ্য সহায়তা পায়। কিন্ত যাদের মাথার ওপর ছাদ নেই, নেই তাদের নিজস্ব কোন ঠিকানা। সেই সব মানুষের ক’জনই খবর রাখে। তাই চন্দনা রানী সাধ্যমত ওইসব মানুষের জন্য খিচুড়ি রান্নার দায়িত্ব নিজেই তুলে নেন। নিজ হাতে প্যাকেট তৈরী ও ব্যাগ গোছানোর দায়িত্ব তার। পারিবারিক সিদ্ধান্ত এই কাজে উৎসাহিত হয়ে রাতের আঁধারে রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, আনন্দ বাবুরপুল ও নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায় দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষকে করোনার দুর্দিনে সামান্য খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে পেরে ভাল ভীষণ লাগছে।
কলেজ স্টেশনের এক কোনে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে থাকা ছকিনা জেগে উঠে জানান, বাবা সারাদিন পেটে দানা পানি যায়নি। খাবার কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলে স্টেশনে মানুষ নাই, খাবারও নাই, থাকার বিছানা নাই। কোনমতে জীবন চলে। ছেলে মেয়ে থাকা সত্ত্বেও তাদের খবর কেউ রাখে না। রাখাল ওইসব মানুষকে পরম মমতায় ও আদরে তাদের হাতে রাতের পর রাত খাবার পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন।
ছকিনার মত আরো অনেকেই এই করোনার মহামারিতে তাদের পথের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছে। এখন বিত্তশালীদের সাহায্য ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল তাদের জীবন। এদের সহযোগিতায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় ছিন্নমূল মানুষদের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নানা পরামর্শ দেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও বার বার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার কথাও বলেন তিনি।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতের আঁধারে তিতুমীর কলেজের এক শিক্ষার্থী আবু আল রিয়নকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন নীলফামারী জেলা শহরের চৌরঙ্গীর মোড়, আনন্দ বাবুর পুল, পুরাতন স্টেশন, টার্মিনাল, কলেজ স্টেশন ও হাসপাতাল চত্বরে খুঁজে খুঁজে ৫০ জন কর্মহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে এসব খাবার বিতরণ করেন তারা। দুই দফায় ১০০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়। তিনি জানান, এই সহায়তা চলমান থাকবে।
রাখাল জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে কর্মহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই নেত্রীর আদেশ মেনে আমি ব্যক্তিগতভাবে ও পরিবারের সহযোগিতায় এই ক্ষুদ্র প্রয়াশ চালিয়ে যাচ্ছি। যতদিন এই মহামারি চলবে আমি আমার পরিবারকে সাথে নিয়ে করোনার মোকাবিলা করে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: