গাইবান্ধায় এক এনজিও’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ

শেখ মোঃ সাইফুল ইসলাম গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ মাঠের হাট কবরস্থানের এনজিও’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে চাকুরী দেয়ার প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, মাঠের হাট (কবরস্থান) এলাকার মৃত. আঃ হামিদ সরকারের পুত্র বশিরুল আলম রিজু জনকল্যাণ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ (জিকেজিএস) রেজি:নং- ১০/১৬ নামে মাইগ্রেশন ফোরাম বাংলাদেশ (এম.এফ.বি)’র তত্ত্বাবধানে উপ-প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প ২- এ অসংখ্য মানুষকে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকুরীতে নিয়োগ প্রদান করার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেকের নিকট থেকে জামানতও নেন ওই এনজিও পরিচালক। এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ে ওই কর্মসূচীর কোনরূপ কার্যক্রম না থাকায় নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রতারণার শিকার হয়েছে। তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে জানতে পেরে একাধিকবার মৌখিকভাবে তাদের জামানত ফেরত চাইলেও না পাওয়ায় অবশেষে জামানত এবং বেতনের টাকার জন্য ভুক্তভোগীরা সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

এ ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আঃ জলিলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, অভিযুক্ত বশিরুল আলম রিজু একজন প্রতারক এটা সত্য । তিনি মানুষকে চাকুরী দেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাত করেছেন এটাও সত্য । আমি অভিযোগ পেয়ে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম, তবে রিজু পুলিশের সামনে আসেনি। এ ব্যাপারে আমি তৎপর রয়েছি। একই বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতারক, এনজিও নির্বাহী পরিচালক বশিরুল আলম রিজু’র ব্যবহৃত ০১৩০৬১৮৮৪১২ নাম্বারে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত বশিরুল আলম রিজু পূর্ব থেকে এই জাতীয় প্রতারণার ফাঁদ বিস্তার করে আসছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সে বহু আগে থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে, প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করে দিচ্ছে এই মর্মে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অথচ তাদের চাকরি হয় নাই, কোন স্কুল এখনো জাতীয়করণ হয় নাই।এমন প্রতারণা সে আর কতদিন করবে এই বিষয় নিয়ে এ এলাকার সাধারণ মানুষ তার ওপরে প্রচন্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেন । তারা একথাও বলেন, সে এ এলাকার একজন অভিশপ্ত ব্যক্তি। তার এই কৃতকর্মের জন্য তার বিচার হওয়া উচিত। এলাকা সূত্রে জানা যায় যে, ইতোপূর্বে সাদুল্যাপুর উপজেলার শ্রী প্রভাত চন্দ্র বর্মন( ভানু) এর নিকট থেকে চাকরি দেওয়ার নামে তার কাছে রিজুর চেক রেখে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। অথচ চাকরি না দিয়ে তার সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই চেক প্রতারণার মামলা বর্তমান গাইবান্ধা কোর্টে চলমান । যে মামলাতে তার সাজা হয়েছে, সে প্রায় দুই মাসের মত জেলও খেটেছে, বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে । এই জাতীয় প্রতারণার অভিযোগ এবং মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য। তার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে জানা যায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মিনিমাম চাকরি দেওয়ার নামে জামানতের টাকা নিয়েছে ৫০০ জনের নিকট থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: