গাইবান্ধায় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শেখ সাইফুল ইসলাম,গাইবান্ধাঃ সারা বছর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ফল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এ উদ্যোগকে সফল করতে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত ৭ অক্টোবর/২০১৯ইং তারিখে গাইবান্ধা হর্টিকালচার সেন্টারের আয়োজনে দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে রংপুর অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংদের হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি-এমপি, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ী, ঢাকার পরিচালক কৃষিবিদ চন্ডি দাস কুন্ডু, দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াজেদ, খামারবাড়ী ঢাকার প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ ড. মেহেদী মাসুদ, গাইবান্ধা পৌর মেয়র অ্যাড. শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে বছরব্যাপী ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী এর সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। যুগোপযোগী উদ্যানবিষয়ক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, দক্ষ কৃষক তৈরী, আধুনিক সম্প্রসারণ সেবা প্রদান এবং বিদ্যমান ও নতুন জাতের ফলকে সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে এ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সিনিয়র হর্টিকালচারালিস্ট জনাব সাইখুল আরেফিন বলেন, মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, মেধার বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনিক মাথাপিছু ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। তবে বর্তমানে এ দেশে যে পরিমাণ ফল উৎপাদন হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪০ শতাংশ। প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়নের ফলে কৃষিজমি কমে আসছে। উন্নত বীজ, সেচ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ ফসলের উৎপাদন বেড়ে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও উদ্যান ফসলের উৎপাদন বিশেষ করে ফলের উৎপাদন এখনো কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। কিন্তু এ দেশে যে ফলগুলো উৎপাদিত হয় তার প্রায় ৬০ শতাংশ পাওয়া যায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর- এ চার মাসে। শীত মৌসুমে ফল প্রাপ্তির সুবিধা কম। কাজেই এ সময় ফল খাওয়ার সুযোগের অভাবে মানুষের বিশেষ করে গ্রামীণ মা ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত রোগ অহরহ দেখা যায়। বিকল্প খাদ্য হিসেবে ও সুষম খাবার গ্রহণে ফসলের অবদান অতুলনীয়। ফলের এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকসহ বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি জনগণের টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রচলিত, অপ্রচলিত এবং অন্যান্য দেশি বিদেশি সম্ভাবনাময় সব ধরনের ফলের চাষাবাদ বাড়িয়ে সারা বছর সমানভাবে ফলের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সারা বছরব্যাপী ফল উৎপাদনে দেশের বিদ্যমান সুবিধাগুলোকে এ প্রকল্পের কাজে লাগানো হচ্ছে’।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য ফসলের উৎপাদন ও এলাকা বৃদ্ধি অন্যতম উপায়। পুষ্টির অন্যতম উৎস হলো ফল। আমাদের দেশের আবহাওয়া ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বছরব্যাপী ফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মানসম্মত চারা, কলম উৎপাদন, নতুন নতুন ফলের জাত সম্প্রসারণ এবং আধুনিক উদ্যান প্রযুক্তি বিষয়ে চাষীদের দক্ষ করে তোলা, জনসাধারণের উদ্যান বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য হর্টিকালচার সেন্টার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। প্রকল্পের আওতায় দেশি ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে চাষযোগ্য বিভিন্ন বিদেশি ফলের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আরবি খেজুর, রামবুটান, ড্রাগন ফল, এভোকাডো, পার্সিমন, ডুরিয়ান, ম্যাংগোস্টিন, সিড লেস পেয়ারা, নতুন জাতের আম ইত্যাদি ফল আমাদের দেশের আবহাওয়ায় চাষযোগ্য এবং সম্ভাবনাময়’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: