ক্রিকেট মহারথীর বিদায়!


মোঃ পারভেজ আলম, জেলা প্রতিনিধি, ঢাকা :

তার অবসর নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকেই চলছে আলোচনা। অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
ইনস্টাগ্রামে শনিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক।
“আপনাদের এতো দিনের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। (শনিবার) সন্ধ্যা ১৯টা ২৯ থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত ধরে নিন।”
সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন কী না, তা পরিস্কার করে কিছু লেখেননি ধোনি। তবে, তার আইপিএল দল চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী সম্প্রতি বলেছিলেন, অন্তত ২০২২ সাল পর্যন্ত ধোনিকে চান তারা।
ধোনির এই ঘোষণার মানে ৩৫০তম ওয়ানডে হয়ে থাকল তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে হেরে যাওয়া ম্যাচে ৫০ রান করেছিলেন ধোনি। দেশের হয়ে তিনি ৯০টি টেস্ট ও ৯৮টি টি-টোয়েন্টিও খেলেছেন।
সবসময়ের সেরা ফিনিশারদের একজন হিসেবে বিবেচিত ধোনি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর থেকে ক্রিকেটের বাইরে আছেন। এই সময়ে তার অবসর নিয়ে আলোচনার কমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত নিয়ে নিলেন সিদ্ধান্ত। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝপথে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ধোনি। এবার ছাড়লেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটও।
২০০৪ সালে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে করেছেন ১৫ হাজারের বেশি রান। আছে ১৬টি সেঞ্চুরি ও কিপার হিসেবে আটশ’র বেশি ডিসমিসাল। তবে, শুধু এসব সংখ্যা ব্যর্থ ভারতীয় দলে ধোনির প্রভাব তুলে ধরতে। কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি হয়ে থাকবেন স্মরণীয়; অপ্রথাগত স্টাইল ও সামর্থ্য এবং প্রবল চাপের মধ্যে মাথা ঠাণ্ডার জন্য।
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক ধোনি। ২০০৭ সালে নেতৃত্ব পেয়েই দেশকে জেতান প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা। এরপর তার নেতৃত্বে ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে তারা, যা দেশটির দ্বিতীয়। ২০১৩ সালে দলের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়েও নেতৃত্ব দেন তিনি। প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাংকি এর শীর্ষে ধোনির নেতৃত্বেই ওঠে ভারত।
রেকর্ড বইয়ের একটা পাতায় ধোনি আছেন একাই; একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা।
ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময় ব্যাটিং করেছেন পাঁচ-ছয় নম্বরে। এরপরও ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের হয়ে ১০ হাজার রান করা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন তিনি। সব মিলিয়ে খেলেছেন ৩৫০ ওয়ানডে, ৫০.৫৭ গড়ে রান করেছেন ১০ হাজার ৭৭৩। সেঞ্চুরি ১০টি, হাফ সেঞ্চুরি ৭৩টি। টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৯৮টি। রান করেছেন এক হাজার ৬১৭, গড় ৩৭.৬০, হাফ সেঞ্চুরি একটি।
ছয় বছর আগে টেস্ট থেকে বিদায় নেওয়া ধোনি এই সংস্করণে খেলেছেন ৯০ ম্যাচ। ছয় সেঞ্চুরি ও ৩৩ হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন চার হাজার ৮৭৬ রান, গড় ৩৮.০৯।
নেতৃত্বগুণ আর ব্যাটিং সামর্থ্যের সঙ্গে উইকেটকিপার হিসেবে অসাধারণ ছিলেন ধোনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮২৯টি ডিসমিসাল তার, ৬৩৪ ক্যাচ ও ১৯৫ স্টাম্পিং। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল করা কিপারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে তিনি। ৯৯৮ ডিসমিসাল নিয়ে শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সংখ্যাটি ৯০৫।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: