কুষ্টিয়ায় এক চিকিৎসকের ৫ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২টি ফ্লোর এর প্রায় সবকিছু ভস্মীভূত

রফিকুল ইসলাম : শনিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. শহিদুল ইসলামের শহরতলীর হাউজিং ডি-ব্লকের ১১/১নং পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দুইটি ফ্লোর (৩য় ও ৪র্থ তলা) এর প্রায় সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় । এভবনের বৈদ্যুতিক চুলা থেকে উক্ত অগ্নুৎপাতের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।

ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ইয়ারুল ইসলাম জানান, শনিবার ভোরে মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি কালো ধোঁয়া ও কিছুক্ষণের মধ্যেই জানালার কাঁচ ভাঙ্গার শব্দ এবং দাউ দাউ করে আগুনের ফুলকি বের হতে থাকে। উক্ত ভবনের মধ্য যারা ছিলো তারা হাউ মাউ করে কান্নাকাটি ও চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু পাঁচতলা ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলায় আগুন লাগার ফলে নিচ থেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে কিছু করার ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমকল বাহিনীর লোকজন এসে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ।

কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম (প্রাথমিক তদন্তকারী) সরেজমিনে যেয়ে জানান, বৈদ্যুতিক চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় দ্রূত আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। এক্ষেত্রে ভবনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি মোকাবিলায় যে ধরনের ওয়ারিং থাকার প্রয়োজন ছিল তা না থাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এঘটনায় ৩য় ও ৪র্থ তলার সবকিছু পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। কিন্তু সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপন করা সম্ভব হয়নি, তবে তদন্ত শেষে বলা যাবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এবিষয়ে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, পরিকল্পিত অবকাঠামো বা ভবন নির্মাণ তদারকির জন্য সরকারের কয়েকটি বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট বিভাগ দায়িত্বশীল হলেই পরিকল্পিত ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবগুলি দপ্তরের সমন্বিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই কেবল নিরাপদ ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উক্ত ভবনে তাৎক্ষণিক কোন অগ্নি নির্বাপন সামগ্রী ছিলো না এবং ভবনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ওয়ারিং দুর্বল ছিল। এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দুইটি ফ্লোরের আসবাবপত্রসহ গৃহস্থালীর প্রায় সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়াতে কয়েকশত বহুতল ভবন বা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে যা সার্বিক বিবেচনায় কোনটিই পরিকল্পিত ও নিরাপদ নয়। অগ্নিকান্ডসহ যে কোন ধরণের বিপর্যয় ঘটলে ব্যাপক হারে প্রানহানির ঘটনা ঘটতে পারে। একদিকে প্রাথমিক মোকাবিলায় এসব ভবনের নিজস্ব কোন অগ্নি নির্বাপন সরঞ্জামাদি নেই। এছাড়াও ১০-১২তলা বিশিষ্ট ভবনে বড় ধরনের কোন অগ্নিকান্ড ঘটলে সেটা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসেরও প্রাসঙ্গিক সরঞ্জামাদির অপ্রতুলতা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: