করোনাভাইরাস নিয়ে নতুন ভয়ানক তথ্য দিলেন গবেষকরা

মো. পারভেজ আলম, জেলা প্রতিনিধি, ঢাকা >> নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রামক ক্ষমতা ব্যাংক নোট, মোবাইল ফোনের স্ক্রিন ও স্টেইনলেস স্টিলের মতো বিভিন্ন পৃষ্ঠতলে ২৮ দিন পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার গবেষণার ফলাফল থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, যা ভাবা হয়েছিল নতুন এই করোনাভাইরাস তার চেয়ে অনেক বেশি দিন টিকে থাকতে পারে। বিবিসি জানিয়েছে, এই গবেষণাটি করা হয়েছে ল্যাবরেটরির নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, অন্ধকারে। অতিবেগুনি রশ্মি যে এ ভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে, তা ইতোমধ্যে দেখেছেন গবেষকরা। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে সারফেইস বা পৃষ্ঠতল থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কতোটা- তা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞ সন্দেহ পোষণ করে আসছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই করোনাভাইরাস হাঁচি, কাঁশি ও কথা বলার মাধ্যমে ছড়ায়। কিন্তু বাতাসে ভেসে বেড়ানো কণার মাধ্যমেও যে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে, সে প্রমাণও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাস আছে এমন ধাতু বা প্লাস্টিকের পৃষ্ঠতল স্পর্শ করেও কেউ কেউ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে এভাবে সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা অত্যন্ত কম বলে মনে করা হয়। গবেষণাগারে করা আগের পরীক্ষাগুলোতে সার্স-কোভ-২ কে ব্যাংক নোট ও গ্লাসে দুই থেকে তিন দিন এবং প্লাস্টিক ও স্টেইনলেস স্টিলে ছয় দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সংস্থা সিএসআইআরও এর এই গবেষণা ভাইরাসটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বলে ধারণা দিচ্ছে। দেখা গেছে, অন্ধকারে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ব্যবহার করা গ্লাস এবং প্লাস্টিক ও কাগজের ব্যাংক নোটের মতো মসৃণ পৃষ্ঠতলে ভাইরাসটি ২৮ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ওই একই পরিবেশে সাধারণ ফ্লুর ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে ১৭ দিন পর্যন্ত। ভাইরোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, সার্স-সিওভি-২ শীতল তাপমাত্রার তুলনায় উষ্ণ তাপমাত্রায় কম সময় বেঁচে থাকতে পারে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়ার তাপমাত্রায় কিছু পৃষ্ঠতলে এর সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এটি কাপড়ের মতো বহুরন্ধ্র উপকরণের তুলনায় মসৃণ, রন্ধ্রবিহীন পৃষ্ঠতলে বেশি সময় বেঁচে থাকে। ১৪ দিনে কাপড়ের মাধ্যমে কোনো সংক্রমণ ছড়ায়নি বলে দেখা গেছে। তবে এই গবেষণা ফলাফলের সমালোচনা করে কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কমন কোল্ড সেন্টারের অধ্যাপক রন একেলস বলেছেন, ভাইরাসটি ২৮ দিন বেঁচে থাকতে পারে এই ধারণা ‘জনসাধারণের মধ্যে অযথা ভয়’ ছড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: