জামালপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের সমিতির ও একটি পরিবারের একে অপরের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

[youtube]M990mZjnfZE[/youtube]

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম : জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও শহর আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্যোগে গঠিত সমমনা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ, হাইস্কুল মোড় জামালপুর ২১ অক্টোবর সোমবার বেলা ১২টায় জামালপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন সমিতির সভাপতি ও জামালপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জামালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ। তিনি বলেন ২০০৩ সালে এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৬ সালে জেলা সমবায় অধিদপ্তর জামালপুর কর্তৃক নিবন্ধিত হয়। গত কাল জামালপুর প্রেসক্লাবে জৈনকা চায়না খাতুন, জামালপুর পৌরসভার বামুনপাড়া নিবাসী মো. নুরুল হকের কন্যা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। আমার মনে করি ,তার বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, হীন উদ্দেশ্যপূর্ণ ও সড়যন্ত্রমূলক। তিনি বলেন, গত ৭ এপ্রিল ২০১৯ খ্রি. তারিখে জামালপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জামালপুর পৌরসভার তীর্থ চন্দ্রা মৌজার ১৫ শতাংশ জমি সমিতির সাবেক (সদ্য) সভাপতি আলহাজ্ব জাকির হোসেনের নামে ক্রয় সূত্রে জমির মালিক এস এম মাফুজুর রহমানের নিকট থেকে সাব কবলা করে পরবর্তীতে জাকির হোসেনের নামে জমা খারিজ সম্পন্ন করি। আমরা আগে থেকেই জেনে এসেছি চায়না খাতুন ও তার পিতা নুরুল ইসলাম, পূর্বে থেকেই মাফুজুর রহমানের পক্ষে জমিটি দেখভাল করতেন। বর্তমানে জামালপুর সদর উপজেলায় ভূমি ডিজিটাল সার্ভে কাজ চলার সুবাদে নুরুল ইসলাম মাঠ জরিপের সময় চতুরতা সাথে সমিতির সদস্যদের অগোচরে দখলদার হিসেবে তার নাম লিপিবদ্ধ করে। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে সদর সেটেলমেন্ট অফিসারের স্মরণাপন্ন হলে এবং জমির কাগজ পত্র দেখালে তিনি ৩০ ধারায় নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন ।আমরা নুরুল ইসলামের শঠতায় অবাক হয়ে যাই এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দারস্হ্ হই ও তাদের পরামর্শে ১৯ অক্টোবর সকালে নুরুল ইসলামকে উক্ত জমি দেখভাল করার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেই। এই প্রেক্ষাপটে জামালপুর সদর থানার এস.আই আব্দুর রহমান ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষের দলিল পত্র নিয়ে ২০ অক্টোবর বিকাল ৪টায় সদর থানায় উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। সমিতির সভাপতি বিজন কুমার চন্দ আরো বলেন, আমরা আশ্চর্যের সাথে লক্ষ্য করলাম গতকাল ২০ অক্টোবর সকাল ১১টায় জামালপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে চায়না খাতুন, আমি (বিজন কুমার চন্দ) জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ, ব, ম জাফর ইকবাল জাফু সদস্য সানোয়ার হোসেন শান্ত, পৌর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা,কাল্পনিক,উদ্দেশ্য প্রণোদিত মনগড়া সংবাদ উপস্থাপন করে আমাদের সামাজিক ও এবং রাজনৈতিক সম্মান বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অপরদিকে, জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আ,ব,ম,জাফর ইকবাল জাফু ও সদস্য সানোয়ার হোসেন শান্ত বলেন, রাজনৈতিক ভাবেই একটি কুচক্রী মহল তাদেরকে হেয় করার জন্যই এমনটি করছেন। অপরদিকে, একই বিষয়ে এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরে চায়না খাতুন বলেন, জামালপুর পৌরসভার বামুনপাড়া এলাকার পাইনের মোড়ে তীর্থ চন্দ্রা মৌজায় তিনি ও তার পরিবার ১৫ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসাবস করে আসছেন। বিগত ২০১১ সালের ১০ মে এম এইচ এম শামসুদ্দোহা ও জামালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দসহ অনেকেই আমাদের বসতবাড়িতে ঢুকে হুমকি প্রদান করে। তারা তখন বসতবাড়িসহ জমি ক্রয় করে নেওয়ার কথা জানান। একই সাথে তারা আমাকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্যও হুমকি দিয়েছিল। তাদের হুমকির ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী চায়না খাতুন তার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে থানায় ডেকে নিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। চায়না খাতুনের কাগজপত্র সঠিক থাকায় থানা কর্তৃপক্ষ বিবাদীদেরকে ওই বসতবাড়িতে যেতে নিষেধ করেন। কিন্তু এরপরও তারা ক্ষান্ত হননি। কয়েক বছর যাওয়ার পর ২০১৫ সালের ১০ জুন জামালপুর পৌরসভার ফুলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত ছানোয়ার হোসেনের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান মিস্টারসহ কয়েকজন আবারও বাড়িঘর দখলের হুমকি দেন। একপর্যায়ে শনিবার ১৯ অক্টোঃ বেলা ১১ টার দিকে জামালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ব ম জাফর ইকবাল জাফু ও সদস্য সরোয়ার হোসেন শান্তসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী চায়না খাতুনের বসতবাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা করে। হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে থাকা যাবতীয় আসবাবপত্র একটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের অনেকেই এগিয়ে গেলেও ভয়ে তারা কোনো সহযোগিতা করতে পারেননি। পরে হামলাকারীরা ঘরের সামনের দেয়ালে সমমনা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ নামে একটি ব্যানার টাঙ্গিয়ে দেন।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী চায়না খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে বসতবাড়ি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। চায়না খাতুনের ভুক্তভোগী পরিবারটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বসতবাড়ি ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন।এদিকে চায়না খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা আজ থেকে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিমুখে আমরণ অনশনের জন্য অবস্থান নিয়েছেন। চায়না খাতুন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রচার হলে,জামালপুর পৌরসভাধীন বামুনপাড়াগ্রামে বিরোধপূর্ণ ১৫ শতক জমি ক্রয় এবং দখলকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ২১অক্টোবর উভয় পক্ষ্যের সাথে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি,পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সাথে একটি জরুরী বৈঠক হয়। উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাছাই করে জমির প্রকৃত মালিকানা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এসিল্যান্ড জামালপুর সদর থানার ওসিকে রিসিভার নিয়োগ করেন।আগামী১৫ নভে.মধ্যে বিরোধ নিস্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে দলিলপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
%d bloggers like this: